আমতলীতে সংঘর্ষে কৃষক নিহত, আহত-৫

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ॥

জমির সীমানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সুলতান গাজী (৫০) নামের এক কৃষক নিহত ও তার দুই ছেলেসহ ৫ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চুন্নু গাজী ও পনু গাজীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার ঘোপখালী গ্রামে। পুলিশ কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের লতিফ গাজী ও আইউব মালের সাথে জমির সীমানা নির্মাণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে এ নিয়ে লতিফ গাজীর ছেলে জাফর গাজী এবং আইউব মালের সাথে কথা কাটা-কাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত সুলতান গাজী ও তার দুই ছেলে চুন্নু গাজী ও পনু গাজীকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন খন্দকার আহত সুলতান গাজীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত চুন্নু গাজী ও পনু গাজীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর আহত মোশাররফ মাল, আইউব মাল ও শাহীন মালকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সুলতান গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। শুক্রবার পুলিশ তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে পনু গাজী বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগ এনে আইউব মালকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার পরপরই প্রধান আসামীসহ অপর আসামীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

নিহত সুলতান গাজীর ছেলে মামলার বাদী পনু গাজী বলেন, আমার বাবাকে আইউব মাল, মোশাররফ মাল, হাবিব মাল, তৈয়ব মাল, মকবুল মালসহ অন্য আসামীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুমন খন্দকার বলেন, সুলতান গাজীকে হাসপাতালে আনার পূর্বেই মারা গেছেন।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সুলতান গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলার হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Sharing is caring!