আমতলীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন রেখে চাকরির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী প্রতিনিধি ॥

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেনের এসএসসি পরীক্ষা পাসের দুইটি সনদ রয়েছে। দুইটি সনদে দুই ধরনের জন্ম তারিখ। সনদ ও জন্ম তারিখ গোপন রেখে প্রতারণার আশ্রায় নিয়ে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তথ্য গোপন করে চাকরি নিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিম কুকুয়া গ্রামের মোঃ আজিজ মৃধার ছেলে ইকবাল হোসেন ২০০১ সালে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে জিপিএ-৩.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ওই সনদে তার জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৫। ওই সনদ দিয়ে তিনি ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আমতলী এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ওই পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৩.৫৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

ওই সনদে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে পয়েলা জানুয়ারী ১৯৯০। একই পরীক্ষায় দুই ধরনের জন্ম তারিখ রয়েছে। এরপর তিনি ২০০১ সালের এসএসসির সনদ গোপন করে ২০০৬ সালের উত্তীর্ণ এসএসসি পরীক্ষার সনদ দিয়ে ২০১০ সালে চাওড়া কৃষি কলেজ ভর্তি হন। ওই কলেজ থেকে তিনি কৃষি ডি্েপ্লামায় উত্তীর্ণ হন। প্রতারণা করে এসএসসি পরীক্ষার সনদ ও জন্ম তারিখ গোপন করে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে চাকুরী নেন। ওই সময় এমপিওভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য বরগুনা শিক্ষা অফিস তার কাগজপত্র জমা দেন।

কিন্তু তৎকালিন জেলা শিক্ষা অফিসার তার প্রতারনার কান্ড ধরে ফেলে। কিন্তু কৌশলে তিনি রক্ষা পান এমন অভিযোগ আবদুল হালিমের। ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হয়। ওই সময় থেকে শিক্ষক ইকবাল প্রতারনা করে চাকুরী করে আসছেন। এ ঘটনা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ এলাকায় চাউর হয়ে গেলে হইচই শুরু হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ ঘটনা তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করেছেন।

এ বিষয়ে আবদুল হালিম বলেন, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন প্রতারনা করে এসএসসি পরীক্ষার সনদ ও জন্ম তারিখ গোপন করে চাকরি নিয়েছেন। এ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।

সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোঃ ইকবাল হোসেন দুই জন্ম তারিখের কথা স্বীকার করে বলেন, জন্ম তারিখের ভুল সংশোধনের জন্য বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে এসএসসি পাসের দুইটি সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

আমতলীর কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন প্রতারণা করে সনদ ও জন্ম তারিখ গোপন করে বিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষক ইকবাল হোসেন এই বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আবার ২০০৬ সালে এমইউ বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার দুই সনদে দুই ধরনের জন্ম তারিখ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিয়োগের সময় আমি এই বিষয়টি জানতাম না। এখন খুঁজে দেখেছি শিক্ষক ইকবাল হোসেন এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাস করেছেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়া উল হক মিলন বলেন, তথ্য গোপন করে চাকরি নেয়া অন্যায়। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!