আমতলীতে রডের বদলে বাঁশ : প্রকাশ্যে ভবন ভেঙে বাঁশ সরিয়ে নিলেন ঠিকাদার

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ॥

রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। এ খবর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে ভবন ভেঙে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়েছেন। ভবন ভেঙে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বিদ্যালয় এলাকার শত-শত মানুষ। স্থানীয়রা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেছেন।

জানাগেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহবান করে। ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পান আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ঠিকাদার নুরজামাল। ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালীন উপজেলা জণস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিমের সাথে আঁতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন।

২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যান চান। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় প্রত্যয়ন দেননি এমন দাবী প্রধান শিক্ষকের। ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ল্যান্ট্রিন ও ওয়ালে ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজ মিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজ শুরু করতেই মুহূর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের ল্যান্ট্রিন ও ওয়াল ভেঙে পড়ে, বেরিয়ে আসে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি। তাৎক্ষণিক রাজ মিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। প্রধান শিক্ষক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানান।

রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বিদ্যালয়ের ভাঙা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরজামাল গিয়ে ভাঙা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির ল্যান্ট্রিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ খবর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার নুরজামাল নিজেকে আড়াল করতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে লোকজন দিয়ে ওয়াস ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে যান। ঠিকাদারের এমন দৃশ্য অবলোকন করেছেন স্থানীয় শত-শত মানুষ। তারা ঠিকাদার নুরজামালের বিচার দাবী করেছেন।

ঠিকাদার নুরজামাল রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নতুন করে মেরামতের জন্য ওয়াস ব্লক ভেঙেছি।

আমতলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ভবন ভেঙে বাঁশ বের করে নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!