আমতলীতে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল প্রতিবাদ করায় মারধর

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  ::

আমতলীতে হতদরিদ্র বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মালেক গাজীকে (৭৯) ভূমিদস্যু মাসুদ গাজী ও বাহাদুর গাজী মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত মুক্তিযোদ্ধাকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। ঘটনা ঘটেছে ররিবার সকালে আমতলী উপজেলার গাজীপুর গ্রামে।

জানাগেছে, উপজেলার গাজীপুর গ্রামের হতদরিদ্র বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক গাজী ২০০৬ সালে এক একর সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত পায়। একমাত্র সম্বল ওই জমি গত ১৪ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা মালেক ভোগদখল করে আসছেন। গত মার্চ মাসে মুক্তিযোদ্ধা মালেক অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় পাঁচ মাস তিনি অসুস্থ ছিলেন। ওই সুযোগে স্থানীয় ভূমিদস্যু মাসুদ গাজী, বাহাদুর গাজী, বাবুল গাজী, নুরুল ইসলাম, আলতাফ দুয়ারী, মোতালেব মুসুল্লী ও রিয়াজ হাওলাদার তার জমি দখল করে নেন। ওই জমিতে তারা মাছ চাষ ও ধান রোপণ করেছেন।

এ নিয়ে রবিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধার সাথে ভূমিদস্যু মাসুদ গাজী ও বাহাদুরের কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় তারা মুক্তিযোদ্ধা মালেককে জীবন নাশের হুমকি দেন তারা। ওইদিন বেলা ১০ টার দিকে তিনি বাড়ী থেকে গাজীপুর বন্দরে অগ্রনী ব্যাংকে ফেয়ার প্রাইজ চালের টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মাসুদ গাজী, বাহাদুর গাজীসহ ৬-৭ জনে তার পথরোধ করে এবং তাকে কিল ঘুসি মেরে তার সাথে থাকা ৮৩ হাজার ৩’শ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে দাবী করেন মুক্তিযোদ্ধা।

তার ডাক চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।

আহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক গাজী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারীভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া জমির ৫৫ শতাংশ স্থানীয় ভূমিদস্যু মাসুদ গাজী, বাহাদুর গাজী, বাবুল গাজী, নুরুল ইসলাম, আলতাফ দুয়ারী, মোতালেব মুসুল্লী ও রিয়াজ হাওলাদার জোড় করে দখল করে নিয়েছে। তারা ওই জমিতে মাছ চাষ ও ধান রোপণ করেছে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করে আমার সাথে থাকা ৮৩ হাজার ৩’শ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে ভূমিদস্যু মাসুদ গাজীর মুঠোফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সাথে তার কোন বিরোধ নেই।
আমতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট এমএ কাদের মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করা নেহায়েত অন্যায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!