আমতলীতে বাহরাইন প্রবাসীর স্ত্রীকে গুমসহ একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি \
আমতলী উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী লালন ফকিরের স্ত্রী খাদিজা বেগমকে গুমসহ একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই গ্রামের কালাম হাওলাদার ও তার স্ত্রী হেমেলা বেগম এবং ছেলে রুবেল এ হয়রানি করছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী খাজিদা বেগমের। অসহায় খাদিজা বেগম মামলা এবং কালামের হামলার ভয়ে নাবালক ৩ সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের সোনা মিয়া ফকিরের ছেলে লালন ফকির ২০১৬ সালে স্ত্রী খাদিজা এবং ৩ সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাহারাইনে পাড়ি জমান। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে খাদিজা বেগমের নিকট থেকে প্রতিবেশী কালাম হাওলাদার ২০ হাজার টাকা ধার নেন। ওই টাকা চাইতে গিয়ে কালাম হাওলাদারের সাথে বিপত্তি বাধে তার। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি অফিসে সালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কালাম হাওলাদারের নিকট থেকে টাকা আদায় করে দেন সালিসদাররা। এতে ক্ষিপ্ত হন কালাম হাওলাদার ও তার স্বজনরা। এ ঘটনার জের ধরে খাদিজাকে একাধিকবার মারধর করেন কালাম হাওলাদার তার ছেলে রুবেল এবং স্ত্রী হেমেলা বেগম। মারধর করেই ক্ষান্ত হননি কালাম। খাদিজার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে তিনি। ২০১৯ সালে খাদিজা এবং তার প্রবাসী স্বামী লালন ফকিরের নামে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কামলাকে প্রবাসে নেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন এমন অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খারিজ করে দেন। গত ১৩ আগস্ট খাদিজাকে হয়রানী করার জন্য আবারো মিথ্যা গুম মামলা দায়ের করেন কালামের স্ত্রী হেমেলা। মিথ্যা মামলা ও কালাম হাওলাদার ও তার লোকজনের ভয়ে খাদিজা তার ৩ নাবালক সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ দুলাল মৃধা বলেন, কালাম তার স্ত্রী হেমেলা এবং ছেলে রুবেল হাওলাদার খারাপ প্রকৃতির লোক। প্রবাসী লালন ফকির বিদেশে থাকায় তার স্ত্রী খাদিজাকে একাধিকবার মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে।

খাদিজা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, কালাম হাওলাদার আত্মগোপন করে গুমের নাটক সাজিয়ে আমিসহ ৭ জনকে আসামী করে গুম মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। আমি এখন নাবালক ৩ সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কালামের স্ত্রী হেমেলা বেগম এবং তার আত্মীয় স্বজনরা আমাকে এবং আমার ৩ নাবালক সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি এর বিচার চাই। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে চাই।
কালাম হাওলাদারের স্ত্রী হেমেলা বেগম তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্বামীকে খাদিজা ও তার লোকজন গুম করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী থানার এসআই শুভ বাড়ৈ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। কালাম আত্মগোপনে যাওয়ার পর ফোনে কথা বলার প্রমাণ পেয়েছি।

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের কালাম হাওলাদার নামে একজন গুম হওয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সচেতনতার সাথে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Sharing is caring!