আমতলীতে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন : জড়িতদের বিচার দাবী এলাকাবাসীর

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  ::

বরগুনার আমতলী উপজেলার গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতির বাল্য বিয়ে শুক্রবার রাতে সম্পন্ন হয়েছে। জান্নাতির বাল্য বিয়ে হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এ বাল্য বিয়ের সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করছেন।

জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিম গাজীপুর গ্রামের আলী মাতুব্বরের কন্যা জান্নাতি গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। ওই মেয়েকে বাবা আলী মাতুব্বর পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের মফেজ হাওলাদারের ছেলে পটুয়াখালী ডায়াবেটিস হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (এমএলএসএস) মোঃ রেজাউল হাওলাদারের সাথে বিয়ের কথা পাকা করেন। শুক্রবার উভয় পক্ষের সম্মতিতে পশ্চিম গাজীপুর মোল্লা বাড়ী জামে মসজিদে স্থানীয় বিবাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা ফোরকান মিয়া দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। রবিবার কনে জান্নাতিকে তার বাবার বাড়ী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর পক্ষ তুলে নেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া কন্যার বাল্য বিয়ে হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এ বাল্য বিয়ের সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করছেন।

ওই বিয়েতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, বিবাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মোঃ ফোরকান মিয়া দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাবিনে সপ্তম শ্রেণীতে স্কুল পড়–য়া জান্নাতির বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ওই বাল্য বিয়ে অন্যায়। তদন্ত সাপেক্ষে বাল্য বিয়ের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করছেন তারা।
বর মোঃ রেজাউল হাওলাদারের খালু মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, রেজাউলের সাথে আলী মাতুব্বরের কন্যা জান্নাতির বিয়ে হয়েছে। কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা।

বর রেজাউল হাওলাদার বিয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী জান্নাতি গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে।
এ বিষয়ে জান্নাতির বাবা আলী মাতব্বরের সাথে তার মুঠোফোনে (০১৭০১৬০০১৯৬) যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করা বিবাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মোঃ ফোরকান মিয়া বলেন, মোল্লা বাড়ী জামে মসজিদে জান্নাতির জন্ম সনদ দিয়ে বিয়ে হয়েছে কিন্তু ওই বিয়ের কাজ আমি সম্পন্ন করিনি।

গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিুকর রহমান বলেন, জান্নাতি আমার স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী। বিদ্যালয় বন্ধের আগেও ক্লাস করেছে। ওতটুকু মেয়ের বাল্য বিয়ে মেনে নেয়া যায় না।

আমতলী গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) মোঃ সুলতান হোসেন সিকদার বলেন, এ বিষয় খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বাল্য বিয়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!