আমতলীতে ফরমালিনযুক্ত ফলে বাজার সয়লাব! দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

আমতলী প্রতিনিধি  :: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ফরমালিনযুক্ত (ফরমালডিহাইড) ফলে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এ ফরমালিনযুক্ত ফল খেয়ে মানুষের লিভার, কিডনি সমস্যা ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

জানাগেছে, রসালো সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর ফল কাঁঠাল এবং স্বাদ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল আম। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের এ ফল দুটি পছন্দনীয়। আমতলীর বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। প্রজাতি ভেদে এ আম ২৫ মে থেকে ২৫ জুলাই’র মধ্যে পেকে থাকে। অপর দিকে বাজারে গালা ও খাজা প্রজাতির কাঁঠাল ছাড়াও উচ্চ ফলনশীল কাঁঠাল বারি কাঁঠাল-১ এবং বারি কাঁঠাল-২ রয়েছে। কাঁঠাল মে মাস থেকে শুরু করে আগস্ট মাসে পাকে। তবে অধিকাংশ কাঁঠাল পাকার উপযুক্ত সময় মধ্য জুলাই থেকে পুরো আগস্ট মাস পর্যন্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে বাজার আম ও কাঁঠালে সয়লাব হয়ে গেছে। এতো আগে বাজারে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল আসার কথা নয়। অসাধু বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অধিক লাভে বিক্রি করার প্রবণতার কারণে এতো আগে বাজারে কাঁঠাল এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দেশের রাজশাহী, নওগাঁ, যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রচার পরিমাণে আম ও কাঁঠাল উৎপাদন হয়।

আমতলীর ফল ব্যবসায়ীরা এসব স্থান থেকে আম ও কাঁঠাল এনে থাকেন। বাগান মালিকরা বেশী লাভের আশায় উপযুক্ত সময়ের আগেই গাছে কাঁঠাল কাঁচা থাকাবস্থায়ই ওষুধ প্রয়োগ করেন। আমতলীর ব্যবসায়ীরা ওই এলাকা থেকে কাঁঠাল এনে দ্রæত পাকানোর জন্য পানিতে ফরমালিন মিশিয়ে ওই পানি কাঁঠালে দিয়ে পলিথিন মুড়িয়ে রাখেন। ওই কাঁঠাল ২-৩ দিন পরে পেকে যায়। দুই দফায় কাঁঠালে রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান ফল বিক্রির সাথে জড়িতরা। ওই ফরমালিনযুক্ত কাঁঠালে আমতলী উপজেলার বাজারগুলো সয়লাব হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তা, একে স্কুল ও গাজীপুর বাজার ঘুরে দেখাগেছে, পসরা সাজিয়ে আম ও কাঁঠাল নিয়ে বসে আছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ওই ফলের উপরে কোন মাছি বসছে না। মানুষ না বুঝে ওই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বাজারে আমের দাম একটু কম থাকলেও কাঁঠালের দাম অনেক বেশী।

আমতলী পল্লীর এলাকার ক্রেতা মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, আগে কাঁঠালের দোকানে গেলে মাছির যন্ত্রণায় টিকতে পারতাম না। এখন আর আম ও কাঁঠালে মাছি বসতে দেখি না। তিনি আরো বলেন, উপায় না পেয়ে ফরমালিনযুক্ত ফলই কিনে আনতে হয়েছে।

উপজেলার আঠারোগাাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের মোঃ সোহেল রানা বলেন, বাজার ফরমালিনযুক্ত ফলে সয়লাব হয়ে গেছে। বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে রক্ষায় ফরমালিনযুক্ত ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই। তিনি আরো বলেন, দুই’শ টাকা দিয়ে বাজার থেকে একটি কাঁঠাল কিনে বাড়িতে এনেছিলাম। ওই কাঁঠালের কোয়া মুখে দেওয়া মাত্র মুখ বিষে ভরে যাচ্ছে। পরে কাঁঠাল ফেলে দিয়েছি।
কাঁঠাল ব্যবসায়ী কালাম বয়াতি বলেন, আমরা ফলে ফরমালিন দেইনা। বাগান মালিকরা দ্রæত কাঁঠাল পাকানোর জন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন। আমরা ওই বাগান থেকে কাঁঠাল কিনে এলাকায় এনে বিক্রি করি।

আমতলী বকুলনেছা মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোসাঃ মাকসুদা আক্তার ছবি বলেন, ফরমালিন (ফরমালডিহাইড বা মিথানল) একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এই বিষাক্ত পদার্থ ফরমালিন বিভিন্ন ফলে মিশিয়ে পচন রোধ করা হয়। বিষাক্ত ফরমালিনযুক্ত ফল মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ফরমালিনযুক্ত ফল খেলে মানুষের লিভার, কিডনিতে সমস্যা ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্রæত বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।