আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত বাবুগঞ্জের শহীদ মিনার

প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুৎকাঠি বন্দরে এক যুগ আগে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় একটি পাকা শহীদ মিনার। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা শহীদদের সম্মান ও গুরুত্ব তুলে ধরতে স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্মিত হয় শহীদ মিনারটি। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই কর্তৃপক্ষের অযতœ অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে শহীদ মিনারটি।

 

মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলে কোন রকম পরিষ্কার করা হলেও পরের দিন থেকে নিয়মিত বাজারের সমস্ত ময়লা সেখানেই ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি রাহুৎকাঠি বাজারের (সাবেক শিকারপুর ফেরিঘাট) প্রবেশদ্বারের বামপাশেই পাবলিক টয়লেট ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ মিনারটি। মিনারের চারপাশে ও মিনারের উপরে ফেলা রয়েছে সমস্ত বাজারের নোংরা ময়লা আবর্জনা। বেওয়ারিশ কুকুরের একমাত্র রাত্রিযাপনের স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে শহীদ মিনারটি।

 

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল করিম হাওলাদার বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম অঙ্কুর রোপিত হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। আমাদের ভাষা শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। শহীদ মিনার একটি পবিত্র স্থান সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা অমানবিক চিন্তার বিকাশ।

একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা জানা গেছে, মূলত ভাষা শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি। আর ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়া-মহল্লায় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। শহীদ মিনার শুধু একদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়। শহীদ মিনার এভাবে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হলে এ প্রজন্মের কাছে শহীদ মিনারের গুরুত্ব কমে যাবে।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে বিষয়টি এর আগে কেউ জানায়নি। শহীদ মিনারে ময়লার ভাগাড় হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।