আন্ধারমানিক চরভূমি কেটে ইটভাটিতে মাটি বিক্রি , ভাঙনের শঙ্কা

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদীর তীর এবং চরভূমির মাটি কেটে প্রভাবশালী কয়েকটিমহল ইটভাটিতে বিক্রি করছে। দিনে-রাতে ফ্রি-স্টাইলে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি স্পট থেকে এভাবে মাসের পর মাস মাটি কাটা হচ্ছে। ফলে নদী তীরে ভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে। প্রাকৃতিকভাবে জেগে ওঠা চরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল মারা পড়ছে। ইটভাটির সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। ইলিশের অভয়াশ্রম এ নদীটির তীর ও জেগে ওঠা চরভূমি এখন নতুন করে ক্ষতির কবলে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেল থেকে সাগর মোহনা পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ধারমানিকের অবস্থান। এ নদীর মাঝামাঝি এলাকায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রাম সংলগ্ন তীর ও চরভূমি থেকে মাটি কাটা হয়।

 

পরিত্যক্ত একটি ফেরির ওপর স্ক্যাভেটর (বেকু) সেট করে মাটি কাটার কাজ চলে আসছে। এ নদীর দুই তীরে অন্তত ১২টি ইটভাটি স্থাপন করা হয়েছে। ভাটির মালিকদের মাটির যোগান দেয়ার জন্য ইতোপূর্বে সোনাতলা এবং আন্ধারমানিক নদীর তীর কেটে লেবাররা মাটি কাটত। কিন্তু বর্তমানে হোসেনপুর গ্রামের এক ব্যক্তি সুলতান হাওলাদারের নেতৃত্বে এই মাটি কাটা হয় বলে স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন। ওই চক্রটির বিরুদ্ধে ২০২০ সালে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে সশস্ত্র হামলা চালায়। তখন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়। মামলা করা হয়। কিন্তু মাটি কাটা দমেনি। বর্তমানে নদী তীরের শত শত মিটার এলাকার মাটি কাটা হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে মাটি কাটার কাজ। তবে প্রশাসনের তদারকি বাড়ায় এখন ভোর রাত থেকে সকাল আট-নয়টা পর্যন্ত এ চক্র মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, নদী তীর কেটে মাটি সংগ্রহের কাজ বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নদী তীরের জেগে ওঠা চরভূমিতে বনবিভাগ ম্য্যানগ্রোভ প্রজাতির ছইলা-কেওড়া ও গোল প্রজাতির চারা গাছ রোপণের কাজ শুরু করেছে। এই বনায়ন প্রক্রিয়াও মাটি কাটার কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।