আন্দোলনের তৃতীয় দিনে দুই ঘণ্টার সড়ক অবরোধ ববি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

 

শফিক মুন্সি ॥ পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। তবে মামলায় আসামি হিসেবে দুর্বৃত্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সাড়ে ১৩ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। এসময়ের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি না হলে পুনরায় শনিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সড়ক অবরোধ সহ কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে পূর্ব ঘোষিত তিনদফা দাবি না মানায় ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষে শুক্রবার বিকেলে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর মশাল মিছিল করেন তারা। সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এসে দাবি মেনে নেবার আশ্বাস দিলে সড়ক ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ করেন তারা। সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একই জায়গা থেকে শুরু করেন মশাল মিছিল। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক একাধিকবার প্রদক্ষিণ করে। এসময় দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন সেøাগান দেন তারা।

 

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পুলিশ রহস্যজনক কারণে এখনো কাউকে আটক করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহতরা হামলাকারীদের নামের তালিকা প্রদান করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মামলা না করে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। যা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখান করেন। সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস সহ অন্যান্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

 

আলোচনা শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি অমিত হাসান রক্তিম জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে কোনোরকম সুরাহার জায়গায় আসতে পারে নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে মামলায় আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শনিবার সকাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে তাদের। এরমধ্যে কোন সফলতা তারা না দেখাতে পারলে শনিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে সড়ক অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলনে যাবেন শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে, গত বুধবার সকাল ৭ টা থেকে পরবর্তী ১০ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন বিকেলে মঙ্গলবারের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে ভূমিকা নেয়ার তিনদফা দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে শুক্রবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তারা।