আদালত প্রাঙ্গণে জালিয়াতি বেড়েই চলেছে, করণীয় কি ?


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

তপন চক্রবর্তী ::

পিরোজপুর জিলার ভান্ডারিয়া থানার মেদিরাবাদ গ্রাম থেকে ইব্রাহিম হালিম, জাহাঙ্গীর এবং আরো কয়েকজন লোক এসেছেন আমার কাছে আমি আইনজীবী আর এই লোকরা এসেছেন বিপদে আর সমস্যায় পড়ে। তারা নিরীহ আর অনেকটাই অসহায় ধরনের লোক মূলত কৃষিকাজ করেই তারা সংসার চালান। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে কতক টাকা সঞ্চয় করে তারা কিছু জমি কিনেছেন।

এই কেনা জমি চাষাবাদ করে সংসার চালান ছেলে মেয়ের পড়াশুনা করাচ্ছেন এবং বেঁচে আছেন। এই জমি না থাকলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। অল্প কিছুদিন আগে তাদের এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক তাদের বিরুদ্ধে এই সম্পত্তি দাবী করে পিরোজপুর আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছে এই কথা বলে যে এই সম্পত্তি ১৯৫৫ সালে বরিশালের তৃতীয় মুনসেফী আদালতে নিলাম হয়ে গেছে এবং তারা নিলামে কিনে মালিক হয়ে গেছে। আদালতে মামলার করার পর এই মামলাবাজ লোকেরা এখন দখল নিয়ে নেবে বলে হুমকি দিচ্ছে আর সত্যিই যদি জোর করে দখল নেয় তাহলে এই অসহায় লোকগুলি না খেয়ে পরিবার পরিজন সহ মারা যাবে। এখন এই অসহায় লোকগুলির করনীয় কি?

১৯৫৫ সালে পিরোজপুর বরিশাল জেলার মধ্যে ছিল। আমি বরিশাল আদালতের রেকর্ড রুমে খোঁজ করলাম সেখানে ১৯৫৫ সালের ঐ নম্বরে বা নামে কোন নিলাম পাওয়া গেল না। এর অর্থ হলো ঐ নিলামের কাগজটি একেবারেই জাল। এরপর একটু খোঁজ খবর করে জানা গেলে বরিশালের একটি জালিয়াত চক্র এই ধরনের জাল কাগজ তৈরি করেই যাচ্ছে। এই চক্রে আছেন কিছু টাউট কিছু মহুরি এবং কয়েজন আইনজীবী বিশেষ করে একজন আইনজীবী মূল হোতা। তাকে সবাই চেনে তিনি বরিশাল শহরেই থাকেন এবং মোবাইলেই তার সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং আদালত প্রাঙ্গনে সবাই তা জানে। কিছুদিন আগে আজকের বার্তায় এ সম্পর্কে লেখা বেরিয়েছিল তখন এ লোক মন্তব্য করেছিলেন যে, লিখে আমার কিছুই করতে পারবে না, আমার সব লাইন ঠিক করা আছে।

এখন কথা হল যে এভাবে প্রকাশ্যে কি ভাবে এই জালিয়াতি চলছে আর আইনরক্ষকরা কেন কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না। বিষয়টি তো সবার জানা। এভাবে যদি জালিয়াতি আর ভূমি দখল চলে তাহলে অসহায় মানুষ তো শেষ হয়ে যাবে আর দেশের উন্নয়ন কি ভাবে হবে।

আইনজীবী সমিতির যারা নির্বাচিত সংসদে আছেন তারা তো এদের চেনেন তারা কেন ডেকে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এভাবে চুপ করে থাকলে তো এ জালিয়াতি সীমাহীন হয়ে দাঁড়াবে।

এ লেখা যখন লিখছি তখন কয়েকজন লোক নিলামের কাগজ নিয়ে এল তারা মামলা করবে। দেখেই বুঝলাম সেই জাল কাগজ তাই আমি ফেরত দিলাম। কিন্তু কোন আইনজীবী তো মামলা করবে তাহলে এভাবে কি পুরো সমাজটাই শেষ হয়ে যাবে?