আদালত প্রাঙ্গণে জালিয়াতদের এখনই ধরা প্রয়োজন

প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

তপন চক্রবর্তী ॥

একজন লোক এসেছে মামলা করার জন্য একটি দলিল নিয়ে। আমি দলিলটা দেখে চমকে গেলাম। পেশায় আমি আইনজীবী লোকে আমার কাছে সম্পত্তির দলিল পত্র নিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এই দলিলটি দেখে চমকে যাবার কারণ আছে তা হলো দলিলটি বরিশালের সম্পত্তি সম্পর্কে ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে এক হিন্দু মহিলা ঢাকা জেলার হরিরামপুর অফিসে গিয়ে দলিল দিয়েছেন বলে দলিলে লেখা আছে।

কিন্তু বিসয়টি একেবারেই অসম্ভব কারণ ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে স্বাধীনতার যুদ্ধ তখন তুঙ্গে এই অবস্থায় একজন হিন্দু মহিলার পক্ষে বরিশাল থেকে ঢাকার হরিরামপুরে গিয়ে বরিশালের সম্পত্তি সম্পর্কে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়, আর বরিশালে দলিল রেজিস্ট্রি করা যায়নি কেন তার বা কি কারণ। দলিলটি ভাল করে দেখতেই বিষয়টি ধরা পড়ল পুরানো স্ট্যাম্প কাগজে লিখে জালিয়াতি করে সই সিল দিয়ে দলিলটি বানানো হয়েছে যা যে কোন আইনজীবীর চোখে ধরা পড়বেই।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দেশের কয়েকটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কাগজপত্র নষ্ট হয়ে বা পুড়ে যায় যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার হরিরামপুর সাব রেজিস্ট্রী অফিস এবং তখনকার বরিশাল জেলার ঝালকাঠি সাবডিভিশনের অধীন রাজাপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস এবং দেশের আরো কয়েকটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস। সাধারণত সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পরের বছর তার মূল বই জেলার হেড অফিসে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ঐ সাব রেজিস্ট্রি অফিস ১৯৭১ সালে পুড়ে যাওয়ায় তা পাঠানো যায়নি। এই সুযোগে এই সব জাল দলিল বানিয়ে নিয়ে তাই দিয়ে আদালতে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা মামলা করে গায়ের জোরে সম্পত্তি দখল নিয়ে নেয় আর প্রকৃত মালিক রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে শেষ হয়ে যায়।

আমি বললাম এ কাগটি জাল তাই আমার পক্ষে এ মামলা করা সম্ভব নয়। লোকটি আমার উপর ক্ষেপে গেল বলল, আপনি না করলে কি

ছু আসে যায় না, মামলা করার জন্য অন্য উকিল আছে। সে চলে গেল আর শুনেছি যে সে মামলা করেছে এবং তা চলছে। এ ধরনের কাগজ দলিল জাল তৈরি করার জন্য আদালত প্রাঙ্গণে অতি পরিচিত টাউট মহুরি এবং আইনজীবী রয়েছে যাদের সবাই চেনে ও জানে। কথা হচ্ছে এরা যখন এতই পরিচিত এবং সবার জানা তাহলে সরকারি লোকজন ও নিশ্চয়ই জানেন অন্তত জানার কথা। তাহলে এদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

আইনের পেশায় আমার আগে শপথ নিতে হয় ন্যায়ের পথে বিচারের পক্ষে থাকতে হবে। কিন্তু এ ধরনের জাল কাগজের মামলা নির্দিষ্ট কিছু আাইনজীবী করে যাচ্ছেন। তাদের কথাবার্তা পরিষ্কার এখানে টাকা আয় করতে হবে, কার কি হোল তাতে তাদের কিছু আসে যায় না।

এই জালিয়াতি বন্ধ করা কঠিন ব্যাপার নয় এই সব টাউটদের ও কয়েকজন মহুরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব বিষয় এবং সেই সব আইনজীবীদের নাম সহজেই বেরিয়ে আসবে। তারপর আইনী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। বড় কথা ব্যবস্থা নিলে এই সব জাল জালিয়াতি থেকে সাধারণ মানুষও রক্ষা পাবে।

আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসা দরকার আর পাঠকরা একটু সোচ্চার হন তাহলে গণপ্রতিবাদের সামনে এই দুর্নীতিবাজদের দল কিন্তু কোনো ভাবেই টিকতে পারবেনা ।

আর একটি কথা- আমাকে বেনামে ফোন করে কারোর লাভ হবে না, দুর্নীতি যদি চলে তা হলে কলমও চলবে।

Sharing is caring!