আগৈলঝাড়ায় শিশু নোহা’র মৃত্যুতে বাবা, সৎ মা ও ফুপুকে আসামী করে মামলা

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা \

বরিশালের আগৈলঝাড়া আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী নোহা’র হত্যার বিচারের দাবীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে নুসরাত জাহান নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে নোহার বাবা, সৎ মা ও ফুপুকে আসামী করে বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন নোহার গর্ভধারিনী মা।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাগধা-পূর্ব সাতলা আঞ্চলিক সড়কের খাজুরিয়া ঈদগাহ্ মসজিদের সামনে শিশু শিক্ষার্থী নোহা মৃত্যুর মূল রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচারের দাবীতে এলাকারবাসীর ব্যানারে শহ¯্রাধিক লোক ব্যানার, পোষ্টার, ফেষ্টুনসহ ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে শিশু শিক্ষার্থী নোহা হত্যা বা আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বজলুল হক মন্টু, সাবেক ইউপি সদস্য গেলাম মওলা, আলমগীর মিয়া, স্থানীয় সত্তার মিয়া, হাবিবুর রহমান, ছলেমান মিয়া, শামীম মিয়া, হারুন খন্দকার, আব্দুল লতিফ মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা শিশু শিক্ষার্থী নোহা’র হত্যা বা আত্মহত্যা যাই হোক তার রহস্য উন্মোচনে দ্রæততম সময়ের মধ্যে ময়না তদন্তর রিপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে শিশু শিক্ষার্থী নোহা’র দাদা আব্দুল রহিম মিয়া, বাবা সুমন মিয়া, সৎ মা ঝুমুর জামান ও ফুপু লিপি বেগমসহ পরিবারের লোকজন, নিহত নোহার সহপাঠীরাসহ স্থানীয় দুটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় আগৈলঝাড়া পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সোমবার নিহত শিশু নুশরাত জাহান নোহার গর্ভধারিনী মা তানিয়া বেগম নোহাকে পরস্পর আসামীদের যোগসাজশে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে নিহতের বাবা ও বাদীর সাবেক স্বামী সুমন মিয়া (৩৫), সুমনের চতুর্থ স্ত্রী ঝুমুর জামান (২৬) ও সুমনের বোন লিপি বেগম (৩৮) কে আসামী করে বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজাহার জমা দিলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তার ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা এবং ওই পর্যন্ত নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখারও নির্দেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার খাজুরিয়া দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান নোহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ ওঠে স্কুলের একটি পরিক্ষায় নোহা অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষক মারধর ও গালমন্দ করায় নোহা অভিমান করে ৯ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করে। ঘটনায় পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর নোহার বাবা সুমন মিয়া বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে আসামী করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর দেশব্যাপী মানুষের মাঝে নোহার আত্মহত্যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দেয়। তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী কিভাবে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না ও গামছা বেঁধে আত্মহত্যা করে! এদিকে নোহার বাবার মামলার পর থেকে আসামী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পলাতক রয়েছেন।

Sharing is caring!