আগৈলঝাড়ায় বোরোর বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চলতি বারো মৌসুমে ফসলের বাম্পার ফলন হলেও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনের কারনে শ্রমিক সংকটে উঠতি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পরে চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন চাষিরা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অন্য জেলা থেকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের ধান কাটতে আগৈলঝাড়ায় আসার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

দেশের শষ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরিশাল জেলার অন্যতম উপজেলা আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি সেচ সংকটের পরেও প্রকৃতি অনুকুলে থাকায় কৃষকের ক্ষেতে এবছর বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৪শ ৫০হেক্টর।

চাষ করা জমির মধ্যে ৮ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ধান ও ৬শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান চাষ হয়েছে।
উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন ছিল ৪৯হাজার ৮শ ৮মেট্রিক টন চাল। এবছর বাম্পর ফলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ধান উৎপাদন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, বৃহস্পতিবার কৃষি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উপজেলার রাজিহার গ্রামের কৃষক জেমস মৃদুল হালদারের ব্রি-ধান ৫৮ এর বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী ক্রপ কাটিং করা হয়েছে। ওই ক্রপ কাটিংএ হেক্টর প্রতি সাড়ে ৭ মেট্টিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিন। যা বাম্পার ফলন হিসেবে ধরা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বাম্পার ফলনের পরেও করোনা মোকাবেলায় লক ডাউনের কারনে দেশের অন্যান্য বছরের মতো অন্য জেলা থেকে পর্যাপ্ত শ্রমিক না আসতে না পারায় শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ফসল ঘরে তুলতে এখন চাষিরা চরম উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসির উদিদ্দন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ি সরকারী ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য বছরের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ি, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটতে এবছরও শ্রমিকেরা আগৈলঝাড়ায় আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ধান কাটতে ইচ্ছুক শ্রমিকেরা তাদের নিজেদের উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ধান কাটতে আসার প্রত্যয়নপত্র গ্রহন করতে হবে। ওই প্রত্যয়নপত্র সাথে নিয়ে শ্রমিকেরা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা কণ্টাক্ট মালিকের ব্যবস্থাপনায় আগৈলঝাড়ায় আসতে পারবেন।

ধান কাটতে আগত শ্রমিকদের করোনা ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় থাকার জন্য বন্ধ স্কুলগুলো ব্যবহার করার জন্য স্ব-স্ব চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদরে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে মনিটরিং এর জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবদের পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলায় ধান কাটা শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৫শ জন। ইতোমধ্যেই ৫শ শ্রমিক দঅন কাটার জন্য এলাকায় এসে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফসল কাটার ভরা মৌসুম শুরু হবে। আগামী সপ্তাহে ভরা মৌসুম শুরুর মধ্যেই কৃষকের চাহিদানুযায়ি শ্রমিক পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Sharing is caring!