আগৈলঝাড়ায় প্রশাসনের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তায় চলছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা!

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

আগৈলঝাড়া সংবাদদাতা ॥ করোনা মোকাবেলায় আগৈলঝাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার তীব্র প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে সর্বত্র।

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না হওয়ায় গ্রামের হাটবাজার থেকে শুরু করে শহরের হাট-বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই কারো মধ্যেই। স্বাস্থ্য সুরক্ষার পোশাক ও উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষই উদাসীন। হাট-বাজার ও রাস্তায় চলাচলকারী ৮০ভাগ লোকজনকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরুতে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হলেও গত মে মাস থেকে প্রচার প্রচারণা রয়েছে এবারেই বন্ধ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পূর্বের মতো বসছে সকল সাপ্তাহিক হাট-বাজার। ফলে করোনার মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলা আগৈলঝাড়ায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার আতংক বেড়েই চলেছে।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আগৈলঝাড়ায় ৩’শ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে ১৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারপরেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকছে। গ্রামের চায়ের দোকানগুলো খোলা দেখা যাচ্ছে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। করোনা শুরুর পরে লকডাউনের প্রথমে চায়ের দোকানগুলোতে বসে চা খাওয়ার ব্যবস্থা অপসারণ করা হলেও বর্তমানে ফিরে এসেছে লকডাউনের আগের অবস্থা। অকারণেই হাট-বাজার, সড়ক, দোকানে সাধারণ লোকজন ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসনিক কোন তৎপরতা না থাকায় প্রতিদিন তা বেড়ে চলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।

সাধারণ ছুটির পর জীবন-জীবিকার তাগিদে সীমিত পরিসরে সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি না মানার যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে লোকজন। স্বাস্থ্য ঝুঁকির এমন অবস্থা থেকে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল। সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই জনগণের স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

উপজেলা হাসপাতালের প্রধান ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩’শ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে যার মধ্যে ১৬ জনের দেহে করোনা পজেটিভ এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ আকারে উপজেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রওশন ইসলাম চৌধুরী মুঠোফোনে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় প্রশাসনের নীরবতার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে বাজার মনিটরিং এর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য অনুযায়ী গত জুন মাসে উপজেলার কোন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কোন খবর জানা যায়নি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, বর্তমানে উপজেলার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু তৎপরতা দরকার, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেরকমভাবে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করা হচ্ছে না।