আগৈলঝাড়ায় প্রশাসনিক তৎপরতায় ভাটা : “লকডাউন” শব্দটি মুখেই সীমাবদ্ধ

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

তপন বসু, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা ॥ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমণ না ছড়াতে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউএনও’র কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাধারণ জনগণ। “লকডাউন” শব্দটি এখন শুধু কর্মকর্তাদের সরকারী বক্তব্যর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বদলীকৃত ইউএনও তার নতুন কর্মস্থলে যাবার দিনক্ষণ গণনার কাজে ব্যস্ত থাকায় করোনা মোকাবেলায় কোথাও প্রশাসনিক কোন কার্যক্রম নেই বলে দাবি করছে সচেতন মহল।

স্থানীয়রা অভিযোগে বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের শুরুর দিকে করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা গেলেও গত আড়াই সাসে কোথাও কোন তৎপরতা তাদের চোখে পড়েনি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার পয়সারহাট বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য বিধির বালাই না মেনে সেখানের অগ্রণী ব্যাংক শাখার কার্যক্রম চলছে অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক নিয়মে। একইভাবে খোলা রয়েছে পল্লী চিকিৎসক রিপনের রোগী দেখার চেম্বার বাজারের সহিদ মেডিকেল হলও। গত দু’দিন উল্লেখিত ব্যাংক ও ফার্মেসি উন্মুক্ত দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সরাসরি কোন কথা বলতে রাজি হন নি।

উপজেলা হাসপাতাল প্রধান ডা. বখতিয়ার আল মামুন মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের আরব আলী মিয়ার ছেলে পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী ফকরুল হাসান (৫২) করোনা আক্রান্ত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাবার খবর নিশ্চিত করেন। ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার আরও চার জনের করোনা আক্রান্তের খরব নিশ্চিত করেন সাংবাদিকদের।

আক্রান্তরা হলেন গৈলা মডেল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক, পয়সারহাট বন্দরের অগ্রণী ব্যাংক শাখার কর্মচারী নাঠৈর বাসিন্দা মো. নয়ন চোকদার, বাকাল গ্রামের দাস বাড়ির গৌরাঙ্গ দাস (শীল) ও আস্কর গ্রামের বৈদ্য বাড়ির মিন্টু বৈদ্য। ওই দিন ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানিয়েছিলেন করোনা আক্রান্ত ব্যাংকের শাখা ও বাড়িগুলো লক ডাউনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তবে বুধবার বা বৃহস্পতিবারেও ওই ব্যাংকের শাখা বা ফার্মেসি বন্ধ বা বন্ধ করার কোন নির্দেশনাও প্রদান করেনি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

ওই ফার্মেসিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করা ব্যবসায়ী ফকরুল হাসানকে তার সংস্পর্শে রেখে অন্তত ১৫দিন জ্বরের চিকিৎসা প্রদান করেছিলেন।
অগ্রণী ব্যাংক পয়সারহাট শাখা ব্যবস্থাপক অম্লান বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, স্টাফ আক্রান্তের বিষয়ে তিনি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত কর্মচারী নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এসময় তিনি ওই শাখার ৬ জন স্টাফের করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় নমুনা প্রদানের ইচ্ছাও সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করে নিজ উদ্যোগে ইউএনও চৌধুরী রওশন ইসলামের সাথে ফোনে কথা বলেন। এসময় ইউএনও ম্যানেজারকে অফিসের কলাপসিবল গেটে লাগিয়ে ভিতরে বসে অফিসিয়াল কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করায় সেই মোতাবেক কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে মঙ্গলবার রাতেই ইউএনও এবং অফিসার ইন চার্জকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই সকল বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান লক ডাউনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। বাস্তবায়ন করবে থানা পুলিশ। চিকিৎসক হিসেবে তাদের খোঁজ খবর নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা আমার দায়িত্ব।

থানার অফিসার ইন চার্জ মো. আফজাল হোসেন বলেন, বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় তিনি সবাইকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সাথে সাথে আরও সচেতন হবার আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী রওশন ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন।

Sharing is caring!