আগৈলঝাড়ায় খাল দখল করে দোকান নির্মাণের হিড়িক !

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

তপন বসু, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা ॥

আগৈলঝাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকা, ইউএনও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সুযোগে সরকারী খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। তহশিলদারের বাধা উপেক্ষা করে এসকল অবৈধ দোকান নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে হুমকীর মুখে পড়বে চাষাবাদ।

উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল ব্রীজ সংলগ্ন পাকা সড়কের পাশে সরকারী খাল দখল করে দোতলা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় কাদের মোল্লার ছেলে বিপ্লব মোল্লা। স্থানীয়রা অভিযোগে বলেন, বিপ্লবের বড় ভাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এই কারণে তহশিলদার তিন তিন বার বাধা দিয়ে গেলেও তা উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ চলছে।

একইভাবে রাজিহার-বাশাইল সড়কের রাজিহার কালীবাড়ি এলাকায় সরকারী খাল দখল করে দোকান নির্মাণ করেছেন স্থানীয় শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে মাসুম। মাসুম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, স্থানীয় মাতুব্বরদের অনুমতি নিয়ে তিনি দোকান তুলেছেন।

রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস তালুকদার অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইনগতভাবে তিনি উচ্ছেদ করতে না পারায় বিষয়টি ইউনিয়ন তহশিলদারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের লোকজনের মদদের অভিযোগ করে এইভাবে দোকান নির্মাণ হলে একমাত্র খালটিতে আর পানি প্রবাহ পাবেন না চাষিরা। তবে ওই অবৈধ দোকানসহ ইউনিয়নের সকল অবৈধ দোকান তিনি উচ্ছেদ করবেন বলেও জানান।

রাজিহার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বাশাইল গিয়ে বিপ্লব মোল্লাকে তিন তিন বার অবৈধভাবে দোকান নির্মাণে বাধা প্রদান করার পরেও সেই দোকান নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি খাল দখল করে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে রবিবার ব্যবস্থা নেবেন জানিয়ে বলেন রাজিহার ইউনিয়নে খাল দখল করে অবৈধ শতাধিক দোকান উচ্ছেদের জন্য তালিকা অনেক আগেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জমা দেয়া হয়েছে।

খাল দখল করে দোকান নির্মাণ করা বিপ্লব মোল্লা বলেন, তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভোগ দখলীয় সূত্রে আপাতত টিনের ঘর তুলছেন। ওই জায়গায় তাদের গাছ লাগানো ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইন চার্জ মো.আফজাল হোসেন বলেন, বিষয়টি এসিল্যান্ড অফিসের এখতিয়ারভুক্ত। তারা সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ বাধা প্রদান বা অবৈধ উচ্ছেদের জন্য তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বলেন, অবৈধভাবে খাল দখলের বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

Sharing is caring!