আগৈলঝাড়ায় ক্যাথলিক চার্চের কথিত সভাপতি সেজে আত্মসাত করা সরকারী অনুদান ফেরত!

প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

তপন বসু, আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ॥ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় খ্রিস্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভুয়া সভাপতি সেজে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বড় দিন উদযাপনে সরকারী অনুদানের অর্থ আত্মসাত। প্রশাসনিক চাপে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দিয়েছেন খ্রিস্ট সমাজের কথিত সভাপতি মার্সেল হালদার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজিহার গ্রামের খ্রিস্টান সমাজ পল্লীতে। এঘটনায় স্থানীয়ভাবে তোলপাড় চলছে। অর্থ আত্মসাত করে ফেরত দেয়ার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড় দিন’ উদযাপন করতে সরকারীভাবে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৬৯টি গীর্জার প্রত্যেকটিতে ২২হাজার ৩শ ৮৩টাকা বরাদ্দ করে সরকার। জেলা প্রশাসক বরাবরে গীর্জা বা চার্চ প্রধানদের আবেদন অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থ ৬৯টি গীর্জা ও সমাজ প্রধানদের অনুকূলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুদানের চেক প্রদান করেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

গীর্জা বা সমাজ প্রধান হিসেবে রাজিহার খ্রিস্টান সমাজের (ক্যাথলিক চার্চের) অনুকূলে ওই খ্রিস্টান পল্লীর সভাপতি সুশান্ত সরকার প্রশাসনের কাছ থেকে ২৩ ডিসেম্বর সরকারী অনুদানের ২২ হাজার ৩শ ৮৩টাকার চেক গ্রহণ করেন।

এদিকে একই খ্রিস্টান পল্লীর কথিত সভাপতি সেজে রাজিহার গ্রামের মার্সেল হালদার “রাজিহার ক্যাথলিক চার্চের” নামে গত ৭জানুয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে ২২হাজার ৩শ ৮৩টাকার চেক গ্রহণ করে ওই টাকা উত্তোলন এবং তা আত্মসাত করেন।

সূত্র মতে, চার্চ প্রধানদের সরকারী অনুদান গ্রহণের জন্য স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ফোন নম্বর প্রদান পূর্বক অনুদানের চেক নিতে হয়েছে। সেখানে একই এলাকার একই গীর্জার অনুকূলে দু’জনকে কিভাবে গীর্জা প্রধান বা সভাপতির প্রত্যয়ন দিলেন চেয়ারম্যান তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একই এলাকার একই চার্চের অনুকূলে দু’জনের দু’বার সরকারী অনুদান গ্রহণের খবর জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে খ্রিস্টান পল্লীসহ গোটা এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ করা হয় প্রশাসনের কাছেও।

এ ব্যাপারে রাজিহার খ্রিস্টান সমাজের (ক্যাথলিক চার্চ) সভাপতি সুশান্ত সরকার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারীভাবে ২২হাজার ৩শ ৮৩ টাকা অনুদান উত্তোলন করে তা বড়দিন উৎসব উদযাপনে খরচ করেছেন তিনি। মার্সেল হালদার অনুদানের টাকা গ্রহণ করেছেন তা তাদের কমিটির কেউ জানেন না।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজিহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন করা ব্যক্তিকে তিনি অনুদারে চেক প্রদান করেছেন। একই চার্চের নামে দুবার সরকারী অনুদান গ্রহণ করা কথিত সভাপতি মার্সেল হালদারকে সরকারী টাকা ফেরত দিতেও বলেছেন তিনি।

দ্বিতীয় বার টাকা উত্তোলন করা রাজিহার ক্যাথলিক চার্চের কথিত সভাপতি মার্সেল হালদার বলেন, তিনি সভাপতি থাকা অবস্থায় অনুদানের আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সভাপতি সুশান্ত সরকার ও সমাজের লোকজন তাকে অনুদান উত্তোলন করতে বলায় তিনি টাকা উত্তোলন করেছেন। সভাপতি সুশান্তর আগে টাকা উত্তোলনের কথা তিনি জানতেন না। তিনি আরও বলেন, সুশান্ত যে টাকা উত্তোলন করেছেন তা দিয়ে তিনি সমাজের কোন কাজে ব্যবহার করেন নি। তিনি ওই টাকায় তার আগামী মেম্বার নির্বাচনের জন্য তার অনুসারী লোকজনকে দাওয়াত করে খাইয়েছে। তাতে খ্রিস্টান সমাজের কোন লোক দাওয়াত পায়নি বা খায়নি। টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ভুল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার সরকারী অনুদানের সমপরিমাণ ২২হাজার ৩শ ৮৩টাকা আগৈলঝাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের ০৩০১২০০০০০০১২ হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন। যার রশিদ নং- খ৪৮৬৭৩৬। ঘটনার জন্য ইউএনও বরাবরে ক্ষমা চেয়ে বুধবার লিখিত জবাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন দিয়েছেন সেই মোতাবেক আমরা টাকা বরাদ্দ করেছি। সরকারী টাকা আত্মসাতের পরে তা ফেরত দেয়ার বিষয়টি এখন প্রমাণিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম জানান, একই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে দু’ব্যক্তি অনুদানের টাকা গ্রহণ করায় তাদের কাছে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও বক্তব্য চাওয়া হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আসলে প্রতারণা। তাদের লিখিত বক্তব্য পাওয়ার পরেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।