আগৈলঝাড়ায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের বাড়ি

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

তপন বসু, আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ॥ “আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’’ এই সেøাগান নিয়ে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন’ পরিবারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো পাচ্ছে ৩৬টি পাকা বাড়ি। শনিবার সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই বাড়ি উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২এর আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সারাদেশে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সরকারের “ক” তফসীলভুক্ত ২শতক জমি বন্দোবস্ত ও দলিল প্রদান পূর্বক ওই জায়গার উপর ১লাখ ৭১হাজার টাকা ব্যয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা বাড়ি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। সূত্র মতে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় ‘ভূমিহীন ও গৃহহীনদের তালিকায় রাজিহার ইউনিয়নে ৩৭পরিবার, বাকাল ইউনিয়নে ৪৯পরিবার, বাগধা ইউনিয়নে ৭৭পরিবার, গৈলা ইউনিয়নে ১৭৯পরিবার ও রতœপুর ইউনিয়নে ৪৩পরিবারসহ মোট ৩৮৫পরিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, উপজেলায় ‘ক’ তফসীলভুক্ত বাড়ি করার উপযুক্ত সম্পত্তির পরিমাণ পর্যাপ্ত না থাকায় উপজেলায় ৭২শতক জমির বিপরীতে মোট ৩৬টি পরিবারের প্রেরিত তালিকানুযায়ী তাতে অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রকল্পের নির্মিত বাড়িগুলো হচ্ছে রাজিহার ইউনিয়নে ৫টি, বাকাল ইউনিয়নে ৭টি, গৈলা ইউনিয়নে ১৯টি ও রতœপুর ইউনিয়নে ৫টি।

বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম এর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পর সদস্য সচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের তদারকিতে নির্মাণ করা হয়েছে এসব সেমি পাকা বাড়ি।

২নং বাকাল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে বাকাল মৌজায় নির্মাণাধীন সেমি পাকা বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. আবুল হাশেম মন্ডল বলেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগৈলঝাড়াসহ দেশের সকল বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন এবং তালিকাভুক্ত মালিকদের দলিল হস্তান্তর করবেন। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেল প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. শোশার্রেফ হোসেন ও বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস উপস্থিত ছিলেন।

বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস ও গৈলা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কারনেই আজ ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো চিরদিনের জন্য তাদের মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারী বরাদ্দের পরেও সরকারের জায়গায় তাৎক্ষনিক বাড়ি করার উপযোগী পরিবেশ তৈরী করা ও সুফলভোগীদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণের তারা ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন এবং আরও করবেন।

সরকারের কাছে জমিসহ পাকা বাড়ি পেয়ে বাকাল গ্রামের দিনমজুর জয়দেব বাড়ৈ, দিনমজুর রহিমা আক্তার, স্বপন কুমার দে, গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রামের গৃহিণী খাদিজা আক্তার, নূরজাহান বেগম দিনমজুর আলাউদ্দিন সিকদারসহ সুফলভোগী অনেকেই জানান, জীবনের এই দীর্ঘ সময়েও তারা এক টুকরো জমি বা একটি বাড়ি করা তো দূরের কথা দৈনন্দিন শ্রম বিক্রি করে সেই অর্থে কোন রকমে সংসার চালিয়ে খেয়ে বেঁচে আছেন। যেখানে কোন রকমে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে থাকতেন, সেখানে সরকার আমাদের নামে জমি দলিল দিয়ে সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন; যা এখনো স্বপ্নের মতোই মনে হয়। এজন্য তিনি শেখের বেটিকে (জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা) মন ভরে দু’হাত তুলে দোয়া করে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। নতুন পাকা বাড়ি পেয়ে তারা অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ -এমপি সবসময় অসহায়, গরীবদের খোঁজ খবর নিয়ে অসহায়দের পাশে দাড়ান। তাঁর জন্যই আজ আমরা জমিসহ এই নতুন পাকা বাড়ি পেলাম। তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতও ছিলেন অসহায় গরীবের বন্ধু। বাবার মতো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এলাকায় উন্নয়ন কাজ ও সাধারণ মানুষের ভালবাসার কারণে অসহায় মানুষের মনে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।