আগৈলঝাড়ায় অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায় : শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

তপন বসু,আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি ॥
সরকারী নির্দেশ অমান্য করে বরিশালের আগৈলঝাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ধার্যকৃত অর্থ আদায়ের কারণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করলেও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চুপ ! তদন্ত করে ববস্থা নেয়ার আশ্বাষ দিলেন ইউএনও।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ি স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে কোন টাকায় আদায় করা যাবে না ঘোষণার পরেও আগৈলঝাড়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওই পরীক্ষার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার উন্মাদনায় মেতে উঠেছে।

এরমধ্যে উপজেলা সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীতে অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার খাতা জমা নেওয়ার সময় প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ ২০০ থেকে ৩০০টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করার ঘটনায় স্কুল চত্তরে শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি উল্লেখিত পরীক্ষায় টিউশন ফি ছাড়া কোন টাকা আদায় করা যাবে না বলা হলেও সরকারী নির্দেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে ফি’র নামে স্কুলগুলো আদায় করছে ২ থেকে ৩শ টাকা করে।
ওই টাকা আদায়ের ধারাবাহিকতায় ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীতে ২শ টাকা, অষ্টম শ্রেনীতে ২শ ৫০ টাকা ও নবম শ্রেনীতে ৩শ করে টাকা আদায় করার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় খাতা জমা দেওয়ার পূর্বে বিক্ষোভ করেছেন।
এ ব্যাপারে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের দোষ কি? উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্ধারিত ধার্যকৃত টাকা তারা আদায় করছেন। তিনি আরও বলেন, টাকা আদায় শুদু তার স্কুলেই নয়; উপজেলার প্রায় সব স্কুলেই এই টাকা আদায়করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ জানান, অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে স্কুলে টাকা আদায় করার কোন সিদ্ধান্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি দেয়নি। যারা আদায় করছেন এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এ ব্যাপারে তার কিছু বলার নেই বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন টাকা আদায় করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, সরকারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে এই সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কষ্ট নিয়ে কোন টাকা আদায় করা যাবেনা। যদি এই ধরণের কোন কাজ বিদ্যালয়গুলো করে থাকে তবে সেসব বিদ্যালয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাধিক প্রধান শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, বিদ্যালয়গুলোর আর্থিকসহ বিভিন্ন অনিয়মের খবর শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলেও কোন বিষয়ে তিনি কোন আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এমন নজির উপজেলায় নেই। কারন হিসেবে তারা বলেন, স্কুলগুলোতে অবৈধভাবে উত্তোলন করা অর্থের একটা বড় অংশ হাতিয়ে নেন শিক্ষা অফিসার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাশেম বলেন, পরীক্ষার নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধমে জানতে শুনেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি মঙ্গলবার শেষ কার্য দিবসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ব্যতীত অন্য অফিসারদের দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। কারণ, অভিযোগের তীর শিক্ষা অফিসারের দিকেও রয়েছে। তদন্ত কমিটির লিখিত সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।