আগৈলঝাড়ার কিশোরীকে অপহরণের পর তিন মাস আটক রেখে ধর্ষণ, গ্রেফতার এক

প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

আগৈলঝাড়া সংবাদদাতা

আগৈলঝাড়ায় পিতৃ-মাতৃহীন অনাথ কিশোরীকে অপহরণের পর নাজিরপুরে তিন মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে সহায়তাকারী ফুফুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছেথানার অফিসার ইন চার্জ মো. আফজাল হোসেন জানান, উপজেলার রতœপুর গ্রামের ধর্ষিতা কিশোরী (১৫) তার মা মারা গেলে ছোট বোন নিয়ে দাদার পরিবারে আশ্রিত ছিলবাবা ঢাকায় কাজ করতেনদাদা-দাদী মারা যাবার পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেনবাবা ঢাকায় থাকার কারণে অনাথ ওই কিশোরী ও তার ছোট বোনকে বাড়ির উপরের ফুফু সম্পর্কের সাহেদ শেখ এর স্ত্রী আকলিমা বেগম (৫৫)কে দেখা-শোনার জন্য বলেনবাড়িতে আকলিমার ভাসুর সহিদ শেখ (৪০) ওরফে সুমনসহ পরিবারের অন্যান্য স্বজনের যাতায়াতের সুবাদে আসামীদের সাথে ওই কিশোরীর পরিচয় ছিলো

সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় সহিদ শেখ মোবাইল ফোনে কিশোরীকে বাড়ির পাশে রাস্তার উপর তার সাথে দেখা করতে বলেনকিশোরী আত্মীয়তার কারণে সহিদ শেখ এর সাথে রাস্তায় দেখা করতে গেলে সেখানে পূর্বে পরিকল্পিতভাবে অবস্থান করা পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা গ্রামের সহিদ শেখ ওরফে সুমন, একই থানার মাহমুদকান্দি গ্রামের সরোয়ার ফরাজীর ছেলে রেজাউল ফরাজী, আকলিমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন জোর করে কিশোরীকে অপহরণ করে মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুর নিয়ে সহিদ শেখ ওরফে সুমন এর বাড়িতে আটকে রাখেন১৭ মার্চ রাতে আটক কিশোরীকে সহিদ শেখ ওরফে সুমন জোর পূর্বক ধর্ষণ করেনএর পরে কিশোরীকে প্রায় তিন মাস তার বাড়িতে আটকে রেখে সুমন অব্যাহতভাবে ধর্ষণ করে আসছিলেন

গত ১০ জুন কৌশলে ধর্ষিতা কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে এসে বৃহস্পতিবার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধর্ষকসহ তাদের সহযোগী চার জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেমামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তৈয়বুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে সহায়তাকারী ধর্ষিতার চাচি আকলিমা বেগমকে আটক করেন তিনিঅপহরণ ও ধর্ষণ মামলা নং-১২(১৯/৬/২০) এর সহায়তাকারী হিসেবে আকলিমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছেএদিকে ধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরিশাল শেবাচিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তৈয়বুর রহমান

Sharing is caring!