আইনজীবীর বিরুদ্ধে বেআইনীভাবে জমি দখল পাঁয়তারার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অন্যের জমি দখলের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উক্ত আইনজীবী তাঁর আইনী ক্ষমতার অপব্যবহারের হুমকি দিয়ে ও স্থানীয় পেটোয়া বাহিনীর সহযোগিতায় বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকায় অন্যের ২২ শতাংশ জমি নিজের কব্জায় নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই রাতে স্থানীয়দের বাধা প্রদান সত্ত্বেও এই আইনজীবী তাঁর পেটোয়া বাহিনীর সহযোগীদের নিয়ে উল্লিখিত জমিতে অনুপ্রবেশ করে গাছ উপড়ে ফেলেছেন। তবে অভিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেছেন তিনি তার নিজের জমি অন্যের কাছ থেকে দখলমুক্ত করতে গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম অ্যাড. গিয়াসউদ্দিন তমাল। তিনি স্থানীয় মোতালেব মোল্লা ওরফে গেদা মোল্লার ছেলে। এই আইনজীবী কর্ণকাঠীস্থ রেড ক্রিসেন্ট সংলগ্ন (রানীর হাট সড়ক) মোঃ মেহেদি হাসান ওরফে ফিরোজ খানের ক্রয়কৃত ও বর্তমানে ভোগদখল করা কিছু জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে নেবার পাঁয়তারা করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কিছু জমি অবৈধভাবে দখলে নেবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন এই গিয়াসউদ্দিন। কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণের সহযোগিতায় এরকম বিভিন্ন জায়গায় জমি দখলের চেষ্টা করেন তিনি।

এই আইনজীবীর দ্বারা সর্বশেষ ক্ষতিগ্রস্ত ফিরোজ খান বলেন, ২০১৪ সাল থেকে আমি কর্ণকাঠী এলাকায় আমাদের পারিবারিক ২২ শতাংশ জমিতে ‘নূরজাহান আরবান ভিলেজ’ নামে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করি। এখানে নানা রকম বৃক্ষ ও মাছ চাষ শুরু হয়। নিজ বাসস্থান বরিশাল শহরে আসায় এই জায়গা দেখাশোনার জন্য রাশেদ খান নামে একজনকে নিয়োগ দেই। তাকে এই খামারের জমিতে একটি দোকানঘরও তুলে দেয়া হয়। এক সময় এই খামার ও দোকানসহ জমির ওপর নজর পড়ে আমাদের পূর্বপরিচিত গিয়াসউদ্দিনের।

তিনি আরো বলেন, গিয়াসউদ্দিন আইনী ক্ষমতা ও নিজের পেটোয়া বাহিনীর ভয় দেখিয়ে অত্র এলাকা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল কার্যক্রম চালায়। আমার জমিটুকু গ্রাস করতে বেশ কিছুদিন যাবৎ নানা তালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ আমার এই জমি তাকে দিয়ে দেবার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে সে এই জায়গার সমপরিমাণ জমি এলাকার অন্য কোথাও আমাকে দিয়ে দেবে বলে জানায়। তার এই প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় আমার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ও স্থানীয় অনেকের বাধা উপেক্ষা করে আমার লাগানো পাঁচটি আম গাছ উপড়ে ফেলে।

এই জমিতে ফিরোজ খানের তৈরি করা দোকানে কাজ করেন রাশেদ খান নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ৯ জুন রাত ৮ টার দিকে গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় আব্দুল জব্বারের ছেলে এজাজ আহম্মদ আশিক ও ইউনুস মোল্লার ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম এসে তাঁর দোকানের পিছনে খামার থেকে গাছ উপড়ে ফেলা শুরু করেন। অন্যের জমির গাছ এভাবে উপড়ে ফেলার সময় প্রথমে তিনি সহ আরো কয়েকজন বাধা প্রদান করেন। কিন্তু তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় খুব বেশি কিছু বলার সাহস পাননি কেউ। পরবর্তীতে তিনিই ফোন দিয়ে ফিরোজ খানকে এই ঘটনার কথা জানান।

এ ব্যাপারে গিয়াসউদ্দিন বলেন, গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে এটা সত্য। তবে ফিরোজ খান নিজের জমি বলে যে জায়গা দাবি করছে সেটা তাঁর নয়। ঐ জমি আমার নিজের যা ২০১১ সালে আমি ক্রয়সূত্রে মালিক হই। কিন্তু ফিরোজ অনধিকার চর্চা করে আমার জমিতে গাছ লাগিয়ে জায়গা ভোগদখল করছিল। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমি শুধু ফিরোজকে সাবধান করার জন্য ওর লাগানো গাছ উপড়ে ফেলেছি। যাতে করে আমার জমি সে ভোগদখলের চেষ্টা না করে।

তবে এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কাইয়ুম খান কাওছার জানান, কারো লাগানো গাছ কেটে তাকে সাবধান করতে যাওয়া আইনত দ-নীয় অপরাধ। যদি একটি জমির দুজন মালিক দাবিদার হন তবে সেক্ষেত্রে আইনের মাধ্যমে কাগজপত্র দেখে সমাধান করা যায়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন একটি জায়গায় দোকানপাট করে এবং গাছ লাগিয়ে ভোগদখল যিনি করছেন তাকেই আপাতদৃষ্টিতে প্রকৃত মালিক হিসেবে মনে হয়। সেক্ষেত্রে অন্য একজনের এতদিন আইনী কোন ব্যবস্থা না নিয়ে হঠাৎ গাছ উপড়ে ফেলা ঠিক হয় নি।

Sharing is caring!