অভিযোগ নিচ্ছেন না নৌ থানার ওসি : কীর্তনখোলায় নিখোঁজ যুবলীগ সভাপতির মেলেনি খোঁজ

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

এম,নোমান চৌধুরী, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি ॥

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে নিখোঁজ হওয়া ফয়েজ মাহমুদকে গত ৩ দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

১২ আগস্ট বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় বরিশাল চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীতে চলতি ট্রলার থেকে পড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নৌ থানায় নিখোঁজের স্বজনদের কাছে থেকে নেওয়া হয়নি অভিযোগ।
এমনকি ট্রলার চালক জহিরসহ কাউকেই আটক করেনি পুলিশ।

স্বয়ং নৌ-থানার ওসির দাবি, ট্রলার চালক জহির নির্দোষ। এদিকে নৌ-পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় নৌ-ফায়ার স্টেশন ও মেট্রোপলিটনের বন্দর থানা পুলিশ এর তত্ত্বাবধায়নে ডুবুরি কর্তৃক একের পর এক অভিযান পরিচালনা করা হলেও দেখা মেলেনি লাশের।

সাধারণত চরকাউয়া খেয়াঘাটে যাত্রী উত্তোলনে কোন বিধি নিষেধ না থাকায় ইচ্ছেমত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে ট্রলারগুলো। তেমনি ওইদিন জহির মাঝির ট্রলার থেকে চরফ্যাশনের ফয়েজ আহমেদ পড়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক ট্রলার মাঝি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ট্রলারটি ঘাটে লাগানোর জন্য ঘোরানোর সময়ে ভারসাম্য রাখতে না পেরে ছিটকে পড়ে যান ফয়েজ। ওই ট্রলার মাঝির দাবী, জহির অত জোরে ট্রলারটি না ঘুরালেও পারতো। এত জোরে এসে ঘুরিয়েছে; আমরাও বলাবলি করছিলাম জহিরের ট্রলার দুর্ঘটনা ঘটাবে। বলার একমিনিটের মধ্যে দেখি একজন ছিটকে পড়ে গেছেন।

জানা গেছে, ট্রলার থেকে ছিটকে পড়া ব্যক্তি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি ফয়েজ মাহমুদ। তিনি উত্তর চরফ্যাশনের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে।

নিখোঁজ ফয়েজ মাহমুদের স্বজন মোঃ জহুরুল হক জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফয়েজ মাহমুদ।

ফয়েজ বিভিন্ন জটিল রোগে অনেকদিন পর্যন্ত ভুগছিলেন। রোজার সময় হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তখন স্থানীয় সংসদ সদস্যা আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেবার ব্যবস্থা করলেও করোনার কারণে ঢাকায় তার চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি।

ফলে শেষ অবধি চরফ্যাশনেই তার চিকিৎসা হয়। গত ১১ আগস্ট দলীয় কাজে তিনি ভোলা থেকে বরিশালে আসেন। এ সময় নগরীতে তার বড় ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করেন। কাজ শেষ করে ১২ আগস্ট বাসা থেকে লঞ্চে ভোলা যাবেন বলে বের হন। তারপর শুনেছি ভোলা থেকে ফোন দিয়ে তাকে ১২ টার মধ্যে চরফ্যাশন দলীয় কার্যালয়ে থাকার জন্য বলা হয়। তাই লাহারহাটের উদ্দেশে যাওয়ার সময় হয়ত এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, নৌ পুলিশের কাছে গেলে থানার ওসি আমাদের জানিয়ে দেন ১৮ ঘণ্টা পরে লাশ ভেসে উঠলে পাওয়া যেতে পারে। তবে তিনি কোন অভিযোগ নেননি। উদ্ধার অভিযান চলমান আছে লাশ পাওয়া গেলে খবর দেওয়া হবে বলে ওসি জানান। নৌ-থানায় অভিযোগ না নেওয়াতে আমরা বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

চরকাউয়া মাঝি মাল্লা সমবায় সমিতির সভাপতি ওমর হাওলাদার জানান, চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা জহির মাঝির ট্রলার থেকে ফয়েজ নামে একজন লোক নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ট্রলারে একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটি পেয়ে আমরা নৌ থানা ও বন্দর থানায় খবর দেই। খবর পেয়ে তারা উদ্ধার অভিযানে নামে। তিনি জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন এই ঘাটের সকল খরচা মওকুফ করে দেন। সে সময় থেকে এখন অবধি ঘাটটি ইজারা ছাড়া চলছে। আমাদের যে কোন সমস্যায় আমরা বন্দর থানা ও নৌ থানায় যাই। তারা সমাধান করে দেয়।
তবে প্রতি ঈদে আমাদের এখানে নৌ থানা থেকে ২ জন পুলিশ ডিউটি করে।

তিনি আরও জানান, আমাদের ঘাটে মোট দুটি সময়ে ভাগ করে ট্রলার চলে। একটা সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২ টা আরেকটা দুপুর দুইটা থেকে সকাল ৬টা। এই দুই সময়ে এখানে মোট ৮৫ জন মাঝি তাদের ট্রলার চালান। এদের মধ্যে ট্রলার আছে ৫০ জনের। বাকিরা ভাড়া নিয়ে চালান।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি খেয়া পারাপারের ট্রলারে চড়ে বরিশাল নগর প্রান্ত থেকে সদর উপজেলার চরকাউয়া প্রান্তে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি চলমান ট্রলার থেকে হঠাৎ করেই কীর্তনখোলা নদীতে পড়ে যান। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন। তার সন্ধানে বেলা ১১টার দিকে নামেন।
তবে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলমান আছে।

স্বজনদের অভিযোগ কেন নেননি এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আগে লাশ পেলে তারপর অভিযোগ। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের তথ্য মতে ১৮ ঘণ্টা পর লাশ ভেসে না ওঠা পর্যন্ত লাশ পাওয়া যাবে না। ট্রলার চালককে আটক না করার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, সে নির্দোষ তাকে আটক করার কিছু নেই।