অবহেলায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

মুলাদী প্রতিনিধি ॥ অপারেশন থিয়েটারের সকল যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কক্ষে স্থাপন না করায় মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো প্রকার অপারেশন হচ্ছে না। এক্সরে অপারেটরের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যহৃত ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর টেকনেশিয়ান না থাকায় বন্ধ রয়েছে প্যাথলজির কার্যক্রম। এতে একদিকে অযতœ-অবহেলায় সরকারের কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে খুড়িয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা। উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্য থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসা সেবার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সেবা বঞ্চিতরা। কী কারণে সরকারের কোটি টাকা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হচ্ছে তা বলতে পারছেন না কেউ। তবে হাসপাতালে জরুরী অপারেশনের জন্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা।

জানাগেছে ২০০৬ সালে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করনের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করা হলেও ২০১৭ সালে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর পর সরকার হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, এক্সরে, আল্টাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলেও অদৃশ্য কারণে তা স্থাপন না করে ফেলে রেখে প্রায় অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায় এক্সরে অপারেটর না থাকায় ২০০৬ সাল থেকে এক্সরে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং টেকনেশিয়ান না থাকায় ২০১৭ সাল থেকে প্যাথলজিতে কোনো প্রকার পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ রোগীদের বাইরে থেকে বেশি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। গরীব রোগীরা পরীক্ষা করাতে না পারায় চিকিৎসকরা অনুমান করেই চিকিৎসাপত্র প্রদানে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ৪মাস আগে হাসপাতালে একজন ডেন্টাল সার্জন যোগদান করলেও ডেন্টাল ইউনিট না থাকায় রোগীরা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। এছাড়া ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২৮জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত রয়েছেন ১৭জন।

করোনা ইউনিট কিংবা আইসোলোশন বেড না থাকায় কভিড-১৯ রোগীরা চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া কভিড ও নন- কোভিড রোগীদের পৃথক না করায় সাধারণ রোগীরা ঝুকি নিয়েই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সাইয়েদুর রহমান জানান খুব শীঘ্রই হাসপাতালে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে অপারেশন থিয়েটার ও প্যাথলজি কার্যক্রম চালু করা হবে। তবে হাসপাতালের ৩১ শয্যার পুরাতন ভবন ও ডক্টর’স কোয়ার্টারের একটি ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।