অপরাধ দানাবাধার আগেই বিট পুলিশিং কার্যালয়ে তা সমাধানের উপায় রয়েছে-পুলিশ কমিশনার

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে এয়ারপোর্ট থানার উদ্যোগে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় এয়ারপোর্ট থানার নির্মাণাধীন ভবনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার। এসময় তিনি বিগত ওপেন হাউজ ডে-তে উপস্থাপিত ভুক্তভোগীদের সমস্যার বিপরীতে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সরাসরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন এবং উপস্থিত ভুক্তভোগীদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বলেন, এই ওপেন হাউজ ডে-তে আমরা তিন ধরনের আবেদন গুরুত্ব সহকারে শুনে থাকি- ভুক্তভোগীর কথা শুনি, সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণের গঠনমূলক পরামর্শ শুনি এমনকি আমাদের কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম রয়েছে কিনা তা সরাসরি আপনাদের কাছ থেকে শুনে সেই অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা সকলের সামনে পর্যালোচনা করে থাকি। কমিশনার বলেন, আপনার নিজের প্রয়োজন না থাকলেও সমাজের প্রয়োজনে এই ওপেন হাউজ ডে তে আপনি নিয়মিত আসবেন, যারা জানেন না এর সুফল জানিয়ে তাদেরকেও নিয়ে আসবেন।

 

ওপেন হাউজ ডের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, জমি থেকে বা জমির বিরোধ থেকে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়, ফৌজদারি মামলার অবতারণা জমিজমা থেকেই বেশি হচ্ছে। ওপেন হাউজ ডে, বিট পুলিশিং কার্যালয় সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে আবেদন-নিবেদন গুলো আমরা পেয়ে থাকি, তা সমাজে প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশের অংশবিশেষ, যা সমাজে অপরাধ দানা বাধার আগেই তা নির্মূল করার প্রক্রিয়া। অপরাধ যাতে সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য শুরুতেই সেগুলোতে হস্তক্ষেপ করে তাদেরকে আইনে চলার জন্য যদি প্রত্যেকটা আন্তরিকতার সাথে দেখে পরামর্শ দেই, সচেতন করি তাহলে এগুলো থেকে বড় ধরনের কোন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির উদ্ভব ঘটাবে না বা বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হবে না।

 

তিনি আরও বলেন, ওপেন হাউজ ডে প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং এর একটি বড় অংশ। প্রতি মাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনের যে সমস্যাগুলো আমরা হ্যান্ডেলিং করছি এতে আমাদের একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়। এ সমস্যাগুলোর সুন্দর সমাধান কিভাবে করা যায় সে ক্ষেত্রে সবাইকে এগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এই ধারণাটা যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে থানা এলাকার জমি সংক্রান্ত বিরোধ অনেকটাই কমে আসবে। যেমন ওপেন হাউজ ডে-তে আগে যে অভিযোগগুলো আসত এখন তাও অনেকটাই কমে আসছে। কমিশনার বলেন, জমির প্রতি ন্যায়সঙ্গত দাবি থাকতে পারে দাবি আদায় করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির উদ্ভব, হয় এমন কিছু করা যাবে না। ন্যায়সংগত অধিকারের দাবী নিয়ে অপথে -কুপথে জোরজবস্তি পূর্বক কোন আক্রমণ করা চলবে না। আইন সঙ্গত পথে হাঁটতে হবে। ন্যায় সঙ্গগত কোন দাবি থাকলে, ন্যায় সঙ্গত নির্ধারিত যে পথ আছে সেই পথে হাঁটতে হবে। এছাড়া পুলিশ বা আদালত কোথাও কোনো প্রকার সহযোগিতা পাবেন না পুরনো প্রথা চলবে না।

 

এসময় পুলিশ একা কোন কাজ করতে পারেনা, বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা সম্মিলিত উদ্যোগ একটি নিরাপদ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন।

 

উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ খাইরুল আলম বলেন, পুলিশ সম্পর্কে আপনাদের যে পুরনো ধারণা ছিলো, আমরা আর সেগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। ভুক্তভোগীর সেবা ও পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ওপেন হাউজ ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা জানে না, আসে না তাদেরকে গিয়ে এবিষয়ে বেশি বেশি অবগত করবেন। তিনি বলেন, বিট পুলিশিং,কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউজ ডে এর মাধ্যমে আমরা সমাজ থেকে সকল প্রকার অপরাধ দূর করতে চাই। এ জন্য জনসাধারণকে পুলিশের কাছে এলাকার চলমান ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে আরো সোচ্চার হতে হবে। সব সময় সকল তথ্য পুলিশের কাছে থাকেনা। তাই অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশকে সহযোগিতা করুন।

 

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) রুনা লায়লা বলেন, সবার সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেরা সচেতন হতে পারলে একটি নিরাপদ সমাজ উপহার দিতে পারবো।
এয়ারপোর্ট থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার নাসরিন জাহান বলেন, ওপেন হাউজ ডে-তে ভুক্তভোগীদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। আপনাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা হয়।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ জাহিদ বিন আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মোহাম্মদ ফয়সাল,পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) বিপ্লব, এয়ারপোর্ট থানার অফিসারবৃন্দ, কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্যবৃন্দ সহ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।