অতঃপর শেবাচিম হাসপাতালের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

খান আব্বাস ॥ অতঃপর স্থগিত হলো বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলমান তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম। এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি এ.কে.এম শহীদুল হক’র নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৬ সপ্তাহের জন্য নিয়োগের সকল কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. শামীম খালেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিয়োগ প্রত্যাশী সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি নামের দু’জন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

 

এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানী শেষে সোমবার শেবাচিম হাসপাতালে ১২টি ক্যাটাগরিতে চলমান তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩২টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজিত নিয়োগের ভাইবা পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, ‘২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩২ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলার প্রার্থীদের আবেদন না করার জন্য বলা হয়। এরপ্রেক্ষিতে পাবনার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করে ফার্মাসিস্ট পদে আবেদন করেন।

 

আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হাসপাতালের উপ-পরিচালক তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু করেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পরীক্ষার দিন কমিটির সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ পাইয়ে দিতে বাইরে থেকে নকল সরবরাহ করেন।

তিনি আরও জানান, ‘বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলা বাদে বাকী ৫টি জেলার কোটা বাদ দিয়ে নিয়োগের কথা থাকলেও বরিশালের বাসিন্দা ও হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীরা জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের স্বজনদের জন্য আবেদন করেন। এদের মধ্যে একজন হলেন মেহেন্দিগঞ্জ উলানিয়ার আশা এলাকার আবুল কালাম ওরফে তাজুল। তিনি বর্তমানে নগরীর রূপাতলী এলাকায় বসবাস করেন। আবুল কালাম সাবেক ও বর্তমান পরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় দুই বছর পূর্বে চাকরীর বয়স সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি গাজীপুর জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে ড্রাইভার পদে আবেদন করেন।

 

একইভাবে হাসপাতালের অফিস সহকারি সৈয়দ নান্নার মেয়ে এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের কবিরের মেয়েকে চাকরী পাইয়ে দিতে একই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আবেদন করেন। ওই তালিকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারির নাম রয়েছে। কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে প্রবেশপত্র দেয়া ও পরীক্ষার সময় বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করেন। আবুল কালাম শর্তানুসারে নিয়োগ পেতে অযোগ্য হলেও পরিচালকসহ অন্যান্যদের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

 

এছাড়া পটুয়াখালীর আশ্রাফুজ্জামান ও ঝালকাঠির মিজানুর রহমান শর্তানুসারে অযোগ্য হলেও তারা ফার্মাসিস্ট পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে ৬ ফেব্রুয়ারি পরিচালক ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৪ জন প্রার্থীর পরীক্ষার ফলাফল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিচালকের চাকরীর মেয়াদ আগামী মার্চ মাসে শেষ হবে। এতে তিনি তড়িঘড়ি করে বেআইনী ভাবে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত হন। এঘটনায় নিয়োগের সকল কার্যক্রম বাতিল চেয়ে পুনরায় সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ৯ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন দুই নিয়োগ প্রত্যাশী সিরাজুল ইসলাম ও জুয়েনা নীতি। আদালত শুনানি শেষে নিয়োগ কার্যক্রমে চাওয়া স্থগিতাদেশের বিষয়টি খারিজ করে দেন।

 

পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়েই ভাইবা পরীক্ষার আয়োজন করে। এ পরীক্ষার জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে নিম্ন আদালতে খারিজ করা আদেশের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন মামলার দুই বাদী। এর প্রেক্ষিতে আদালত ওই নিয়োগ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।