আজকের বার্তা | logo

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মে, ২০১৯ ইং

পটুয়াখালীর বাউফল আগে টাকা, পরে স্বাক্ষর

প্রকাশিত : মে ১৭, ২০১৯, ০০:১৮

পটুয়াখালীর বাউফল আগে টাকা, পরে স্বাক্ষর

ফরম পূরণের সময় ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা নেওয়া হলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতায় স্বাক্ষরের সময় অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।বিজ্ঞান বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ টাকা। মানবিক ও বানিজ্য বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা।

বাউফল সরকারি কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ওই টাকা আদায়ের অভিযোগ মিলেছে।টাকা না দিলে নম্বর কম দেওয়া হবে এমন ভয়ে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা প্রতিবাদ করতে পারছেন না।বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফরম পূরণের সময় ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বাউফল সরকারি কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সরকারি কলেজে মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৬০২। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩০২ জন ও মানবিক বিভাগে ২৬০ ও বানিজ্য বিভাগে ৪০ জন। ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজ মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২২৪। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৮০ জন, মানবিক বিভাগে ১৩২ জন ও বানিজ্য বিভাগে ১২ জন।

বাউফল সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলে, ‘আগে টাকা, পরে স্বাক্ষর। প্রতিটি ব্যবহারিক খাতা বাবদ ২৫০ টাকা দেওয়ার পরে স্যারেরা স্বাক্ষর করেন। বিজ্ঞান বিভাগের একজন পরীক্ষার্থীকে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, উচ্চতর গনিত/জীব বিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক বাবদ দিতে হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ টাকা। যার কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। টাকা না দিলে কম নম্বর দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে ওই টাকা নেওয়া হচ্ছে।একই কলেজের আরেক পরীক্ষার্থী বলে, ‘আগামীকাল শুক্রবার পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা। তাই ৫০০ টাকা দিয়ে খাতায় স্বাক্ষর করিয়েছি। আমাদের নাম বললে ফেল করিয়ে দেবে।

মানবিক বিভাগের এক পরীক্ষার্থী বলে, ‘কৃষি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক বাবদ তাকে সাড়ে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে।শিক্ষার্থীদের সামনেই বাউফল সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বাদল কুমার সাহার মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কনিষ্ঠ শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান শাহিন স্যারের কাছে জানতে চান।’

এ বিষয়ে কথা বলতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. শাহিন বলেন, ‘আমি একটি মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’  কিন্তু পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী। ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ দুই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এর পরে স্যারেরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েছেন।বাউফল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।অন্যদিকে একই ধরনের কথা বলেন ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোসা. মমতাজ বেগম।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।