আজকের বার্তা | logo

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মে, ২০১৯ ইং

জুলাই মাসে পায়রা বন্দরের রেগুলার অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে

প্রকাশিত : মে ১২, ২০১৯, ১৭:৫৮

জুলাই মাসে পায়রা বন্দরের রেগুলার অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ আগামী জুলাই মাসে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (বিসিপিসিএল) এর নির্মিত টার্মিনাল ব্যবহারের মাধ্যমে পায়রা বন্দরের রেগুলার অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে। কয়লাবাহী জাহাজ থেকে কনভেয়র বেল্টের মাধ্যমে কয়লা আনলোড করা হবে। প্রতিদিন একটি লাইটার জাহাজ কয়লা খালাসের কাজ করবে। বর্তমান অবস্থায় ন্যাচারাল নাব্যতায় চ্যানেলটি ব্যবহার করে মুরিং পয়েন্ট ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছ থেকে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে কয়লা এনে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে সরবরাহ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পরবর্তীতে আরপিসিএল বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের কয়লা একই পদ্ধতিতে খালাস করা হবে। প্রতিদিন একটি করে জাহাজ খালাসের লক্ষ্য নিয়ে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য পোর্ট থেকে ৬৫ মাইল চ্যানেল পাইলট গাইড করার জাহাজ নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চ্যানেলে সাগরের ৩২টি বয়া পুনঃস্থাপিত করা হয়েছে। এভাবে ২ বছর ন্যাচারাল নাব্যতার চ্যানেল ব্যবহার উপযোগী জাহাজ এনে জার্মান শিপিং কোম্পানি (৬ থেকে সাড়ে ৭ মিটার নাব্যতার) পণ্য খালাসের কাজ করে যাবে। আগামী ২ বছরের মধ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিংএর কাজ শুরু করা হবে যা ২০২১ সালে শেষ হবে। তখন ১০-১১ মিটার নাব্যতার জাহাজ সরাসরি মূল চ্যানেলে পণ্য নিয়ে আসবে। এছাড়া রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় নির্মিতব্য টার্মিনালে ২০২৫ সালের মধ্যে সরাসরি পণ্য খালাসের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৩টি পরামর্শক কোম্পানি মাস্টার প্ল্যান অনুসারে মূল বন্দরের কাজ শুরু করেছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংএর জন্য ওয়াটার এবং ল্যান্ডে মোট ২২০ একর জমি বেলজিয়ামের জান-দে-নুল কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেয়ার কাজ চলছে। অপরদিকে সরকারি ডিপিপি অনুসারে ৩টি টার্মিনাল নির্মাণের ডিজাইন, মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। গতকাল পায়রা বন্দর মিলনায়তনে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মো. জাহাঙ্গীর আলম এক ব্রিফিংএ এসব তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের টেন্ডার কল করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের বাকি কাজ যৌথসার্ভের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া নিশানবাড়িয়ায় একটি কোল টার্মিনালসহ আরও একটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৪৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ কোল টার্মিানাল নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। এছাড়াও বহুমুখী কাজে ব্যবহারের জন্য ১.২ কিমি দীর্ঘ টার্মিনাল চান্দুপাড়ায় নির্মিত হবে। বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান নাব্যতার চ্যানেলে ২০-২৫ হাজার টন পণ্যবাহী জার্মান শিপিং কোম্পানির জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ চালাবে। পরে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংএর পরে ৪০-৫০ হাজার মে.টন পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য খালাসের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের পুনর্বাসন ছাড়াও তাদের কর্মদক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ প্রকল্পটিকে ফাস্ট ট্রাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে ১৯টি কম্পোনেন্টে বিভাজন করা হয়। যেখানে দেশের জিটুজি অর্থায়ন এবং সরকারি বেসরকারি অংশিদারিত্ব পিপিপি ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন চলছে। চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, এ পর্যন্ত বন্দরে ৩২টি পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে সরকারের প্রায় ৪৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এছাড়া বন্দর আয় করেছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক ও ১শ’ মিটারের দীর্ঘ জেটিসহ টার্মিনাল নির্মাণে ৫ হাজার ১শ’ ৫০ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় সংবলিত “পায়রা বন্দরের মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করেছে। মোট কথা ২০২৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্র বন্দরে পরিণত হতে যাচ্ছে পায়রা।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।