আজকের বার্তা | logo

৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মে, ২০১৯ ইং

ঈদে নৌ যাত্রায় আগাম প্রস্তুতি: থাকছে বিলাসবহুল ২২টি লঞ্চ

প্রকাশিত : মে ১১, ২০১৯, ১৫:৩৬

ঈদে নৌ যাত্রায় আগাম প্রস্তুতি: থাকছে বিলাসবহুল ২২টি লঞ্চ

ঢাকা-বরিশাল নদী পথে নানা সংকট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৌ পথে ঈদ-উল-ফিতরের যাত্রা নির্বিঘœ করতে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা লঞ্চের টিকেট নিশ্চিতকরণে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ তদবির ছাড়া লঞ্চের টিকেট পাওয়া দুষ্কর। লঞ্চ মালিকরা অবশ্য দাবি করেছেন, এবার ২২টি বৃহৎ লঞ্চ ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ডাবল ট্রিপ দেয়ায় দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। এদিকে লঞ্চের মাস্টার ও ড্রাইভাররা জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুম সত্ত্বেও এ রুটে পর্যাপ্ত বয়া, বাতি নেই। পন্টুন সংকটও তীব্র। এসব সমস্যা সমাধান না হলে ঈদে দুর্ভোগ বাড়বে। শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি বেসরকারি বিমানে কর্মরত বরিশালের বাসিন্দা মো. জুয়েল ঈদের টিকেটের জন্য এখনই ছুটছেন। টিকেট না পাওয়ার শংকায় লঞ্চের কাউন্টারেও খোঁজ শুরু করেছেন তিনি। গতকাল বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ঈদ সার্ভিসের টিকেট সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। এমভি সুরভী লঞ্চ কাউন্টারে কথা হয় একাধিক যাত্রীর সাথে। তারা জানান, কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে লঞ্চের টিকেট পেতে হলে আগে স্লিপ নেয়া হবে। ওই স্লিপের ভিত্তিতে টিকেট দেয়া হবে। কিন্তু গতবছর স্লিপ দেয়া সত্ত্বেও টিকেট পাননি অনেকেইে। যেকারণে লঞ্চের টিকেট পেতে তারা আগেভাগেই তদবির শুরু করেছেন। জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ঢাকা-বরিশাল নৌযান রুট কমিটির সদস্য সচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, তারা ২০ রোজায় ঈদের স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। তার আগে ঈদে লঞ্চ যাত্রীদের সেবা আরও কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে তাদের ২২০টি লঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে ঈদে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে এবার সর্বোচ্চ ২২টি লঞ্চ ঈদ সার্ভিস দিতে পারে। টিকেট প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনলাইনে সব টিকেট ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষ পাবে না। যেকারণে লঞ্চ মালিকরা নিজস্ব পন্থায় কিছু টিকেট ছাড়বেন। তাছাড়া ঈদের টিকেট তো হয় টেলিফোনে, কাউন্টারে ঘুরে পাওয়া যাবে না। লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ও এমভি সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, আগামী ১৮ মে সংগঠনের এজিএম রয়েছে। ওই সভায় ঈদ সার্ভিস নিয়ে আলোচনা হবে। এবার লঞ্চের সংখ্যা বেশি। ঈদে ডাবল ট্রিপে ২২টি লঞ্চ ঢাকা-বরিশাল রুটে চলতে পারে।  লঞ্চের টিকেট পাওয়া প্রসঙ্গে লঞ্চ মালিক রিন্টু বলেন, তারা আগেভাগে স্লিপ নিয়ে এর ভিত্তিতে টিকেট দেন। স্লিপ অনুযায়ী টিকেট না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সংখ্যক কেবিন রয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ স্লিপ পড়লে কি করার আছে। কেবিনের সংখ্যা তো বাড়ানো যায় না। সম্প্রতি আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় তিনি ঈদের ছুটি কয়েক ধাপে দেয়ার প্রস্তাব রাখেন। তাতে যাত্রীদের যেমন টিকেট পেতে সহজ হবে, তেমনি দুর্ভোগও কমবে। তবে লঞ্চের সংখ্যা বেশি তাই এবার টিকেট পাওয়া অনেক সহজ হবে। এদিকে ঈদের আগে ঢাকা-বরিশাল রুটের নিরাপত্তা ও পন্টুন সংকটের দাবি তুলেছেন লঞ্চের মাস্টার ও ড্রাইভাররা। এমভি সুন্দরবন-৯ এর মাস্টার মো. মজিবর রহমান বলেন, ঈদ আসলেও ঢাকা-বরিশাল নৌপথের অনেক স্থানের মার্ক, বাতি নেই। বিষয়টি তারা পাইলট ইন্সপেক্টর মৌজে আলী সিকদারকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, এবার নতুন লঞ্চ এসেছে। ২২টি লঞ্চ ঈদে সার্ভিস দিতে পারে। গত বছর ঈদে লঞ্চ চলেছে ১৮টি। তিনি বলেন, তাদের অন্যতম সমস্যা পন্টুন সংকট। ঈদের সময় ২২টি লঞ্চ এই পন্টুনে বার্দিং সম্ভব নয়। বর্তমানে যে পন্টুন রয়েছে তাতে ১৪ থেকে ১৫টি লঞ্চ ভেড়ানো যায়। বাকিগুলো একটির পেছনে আর একটি ঝুলতে থাকে। তারা বিষয়টি পোর্ট অফিসারকে অবহিত করে আরও ২টি পন্টুন স্থাপনের আহবান জানিয়েছেন। টিকেট প্রাপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকেট অধিকাংশই ব্ল্যাকে চলে যায়। যে কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে টিকেটের এতটা সংকট থাকবে না। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, গত বছরের ঈদ সার্ভিসের ন্যায় একইভাবে এবছরও লঞ্চ চলাচল করবে। সার্ভিসের আগে নৌ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ করা হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই তারা সব সেক্টর নিয়ে সভা করবেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।