আজকের বার্তা | logo

৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মে, ২০১৯ ইং

লালমোহনের সাত হাজার জেলে  খাদ্য সহায়তা পাননি এখনও  

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৬, ২০১৯, ১৪:৪৬

লালমোহনের সাত হাজার জেলে  খাদ্য সহায়তা পাননি এখনও  

এসবি মিলন, লালমোহন প্রতিনিধি ॥  উপকূলীয় এলাকায় ২ মাসের জন্য জাটকাসহ সকল প্রকার মৎস্য আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়-সীমা প্রায় শেষ। কিন্তু ভোলার লালমোহন উপজেলার বেকার জেলেরা এখনও পাননি তাদের পুনর্বাসনের খাদ্য সহায়তা। এ নিয়ে জেলে পল্লীর বাসিন্দারা বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন। জানাগেছে, নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে লালমোহন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ২ শত ৭৭ জন বেকার জেলেকে ৪০ কেজি করে ৪ মাস খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) দেয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনও বেকার জেলেদের মাঝে এই চাল বিতরণ করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ্ত মিশ্র বলেন, আমাদের অফিসে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। সব জানে ত্রাণ অফিস। উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে বদরপুর ইউনিয়নে ৪ মাসের স্থলে মাত্র ১ মাস, কালমা ইউনিয়নে ২ মাস, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে ১ মাস, লালমোহন সদর ইউনিয়নে ৩ মাস, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে ২ মাস, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে ২ মাস, রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ৩ মাস এবং লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে ৩ মাসের চাল ডেলিভারি নেয়া হয়েছে। জানাগেছে, ডেলিভারি নিলেও অনেক চেয়ারম্যানই এ চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ না করে পরিষদের মধ্যে গুদামজাত করে রেখেছেন।
অপরদিকে চরভুতা ইউনিয়ন ও লালমোহন পৌরসভা এখনও চাল ডেলিভারি নেয়নি। উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা অপূর্ব দাস বলেন, সব ইউনিয়নকেই ৪ মাসের স্থলে ৩ মাসের করে ডিও দেয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানরা চাল উত্তোলন করে বিতরণ না করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ফরাজগঞ্জ, পশ্চিম চরউমেদ ও লালমোহন সদর ইউনিয়ন আংশিক চাল ডেলিভারি নিলেও তারা তা জেলেদের মাঝে বিতরণই করছে না। জানতে চাইলে উপজেলার বদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল হক তালুকদার, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল কাশেম এবং ধলীগৌরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু বলেন, আমরা চাল বিতরণ শুরু করেছি। পরিচয় গোপনে রেখে ক্ষুব্ধ জেলেদের মধ্যে অনেকে বলেছেন, প্রতি বছরই নেতারা একটা কৃত্রিম দুরবস্থা সৃষ্টি করে জেলেদের মাঝে ঠিকমতো চাল বিতরণ করেন না। শুরু থেকে নয় ছয় করে সময় পার করে কোনো রকমে কিছু চাল বিতরণ করেন।
পরে এই চালের বিরাট একটা অংশ ভাগাভাগি করে নিয়ে যান জেলে নামধারী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অপরদিকে ক্যারিং খরচের অজুহাতে চালের আরেকটি অংশ বিক্রি হয় কালো বাজারে। যার কারণে সঠিক সময় এবং সঠিকভাবে চাল পাননা প্রকৃত জেলেরা। এতে ব্যাহত হয় সরকারের ভালো উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, প্রতি বছর পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল এই ২ মাস উপকূলীয় জেলাগুলোর নদ-নদীতে জাটকাসহ সকল প্রকার মৎস্য আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। আগামী ৩০ এপ্রিল এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে।
Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।