আজকের বার্তা | logo

৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মে, ২০১৯ ইং

নুসরাতের গায়ে কেরোসিন দেন জাবেদ, মনি চেপে ধরেন বুক-শরীর

প্রকাশিত : এপ্রিল ২১, ২০১৯, ১৪:২৭

নুসরাতের গায়ে কেরোসিন দেন জাবেদ, মনি চেপে ধরেন বুক-শরীর

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তার সহপাঠী কামরুন্নাহার মনি ও জাবেদ। গতকাল শনিবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি দিয়েছেন তারা।এদিন বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে তাদের উপস্থাপন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে জবাবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পিবিআইর চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল।ইকবাল জানান, সহপাঠী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার কিলিং মিশিনে সরাসরি জড়িত ছিলেন মনি ও জাবেদ। দুজনের মধ্যে জাবেদ নুসরাতের সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন। আগুন ভালো করে লাগার জন্য মনি নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন।তিনি আরও জানান, দুজনেই নুসরাত কিলিং মিশিনে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এছাড়া পিবিআই কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও অনেক চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডে আরও নতুন কিছু নামও উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামরুন নাহার মনিকে। ১৩ এপিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাবেদকে। ১৭ এপ্রিল আদালত মনির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শুক্রবার মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পিবিআই। সে সময় নুসরাতকে কিভাবে হত্যা করা হয় তার বর্ণনা দেন তিনি।১৭ এপ্রিল জাবেদকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকেও ৭ দিনের রিমান্ড দেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত তাকে আবারও তিনদিনের রিমান্ড দেন।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি।  মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে নুসরাত ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের ৮ জনসহ মোট ২১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৭ জন।১৩ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করেছে পিবিআই। রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এই কমিটি শুক্রবার বাতিল করা হয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।