আজকের বার্তা | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

রূপালী ইলিশের ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা

প্রকাশিত : মার্চ ২০, ২০১৯, ০৭:৫১

রূপালী ইলিশের ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইলিশের ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমে গত ১ মার্চ থেকে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য অধিদপ্তর। কিন্তু দুই মাসব্যাপী এ নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা। মেঘনাসহ ৫টি নদী বেষ্টিত ৮২ কিলোমিটার এলাকায় এখন নির্বিচারে জাটকা নিধন চলছে। এ অভয়াশ্রমের প্রধান ক্ষেত্র মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলার হাটবাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। ওই দুই উপজেলায় নামমাত্র অভিযানে অল্পসংখ্যক জাটকা উদ্ধার হলেও স্থানীয় সূত্রগুলো জাটকা নিধনে মহোৎসবের তথ্য দিয়েছে। জাটকা ইলিশ পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হওয়ার জন্য মৎস্য অধিদপ্তর মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা এলাকায় নির্বিচারে জাটকা নিধনে ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমের প্রধান ক্ষেত্র মেহেন্দিগঞ্জে নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিনে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১২ থেকে ১৪ কেজি জাটকা উদ্ধার হয়েছে বলে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র দাসের সূত্রে জানা গেছে। এ সময়ের মধ্যে আটক করা হয়েছে ৫ জেলেকে। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার বেলা ১১টায় মেহেন্দিগঞ্জের পাতারহাট বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে জাটকা বিক্রি হচ্ছে ব্যাপকভাবে। মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনাসহ ইলিশা নদী, মাসকাটা নদী, লালখারাবাদ নদীতে দেদারছে জাটকা ধরছেন জেলেরা।

 

ওই জাটকা বিভিন্ন জেলায় পাচার হচ্ছে রাতের আঁধারে। নদীতে তেমন নজরদারিও নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এখানকার মৎস্য সেক্টর দুর্বল। কর্মকর্তারা কেবল লোকদেখানো অভিযান চালাচ্ছেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আ: জব্বার কানন বলেন, জেলেরা তাদের সহায়তা পাচ্ছেন না। বিকল্প কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা নেই। যেকারণে বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেরা নদীতে নামছেন। তাছাড়া এ অঞ্চলের নদীতে পর্যাপ্ত নজরদারিও নেই। এসব প্রসঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, অভয়াশ্রম এলাকার বিশাল নদীতে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কোন ফাঁকে কে নদীতে নামবে তা বলা যায়না। তাছাড়া মৎস্য অধিদপ্তর ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’ এর মতো। তাদের জনবল নেই। তিনি বলেন, চাল সহায়তার বিষয়টি ইউএনও দেখবেন। তবে মৎস্য কর্মকর্তা দাবি করেন, চাল-ডাল দিয়ে জাটকা রক্ষা হবে না। যদি নৌবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প হত এবং নিষেধাজ্ঞাকালীন নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ এ এলাকায় এসে কেবল নোঙর করে থাকতো তাহলে জেলেরা নদীর কাছেও ঘেঁষতেন না। তিনি মনে করেন, মেহেন্দিগঞ্জের আলীগঞ্জে নৌবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প দরকার। এদিকে হিজলার ধুলখোলার আলীগঞ্জ, শাওরা সৈয়দখালী, উলানীয়াসহ বিভিন্ন স্পটে জাটকা নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এসব জাটকা রাতের আঁধারে পাচার হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। হিজলার ওইসব এলাকায় দেদারছে জাটকা ধরলেও মৎস্য অধিদপ্তরের তৎপরতা নেই। হিজলা উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বলেন, জেলেরা বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন।

 

তাদের চাল সহায়তা এখনও দেয়া হচ্ছে না। অভিযানেও সমন্বয় নেই। এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রচারণা তেমন ছিল না। যেকারণে ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রমের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সাধারণ মানুষও তেমন অবগত নন। এসব প্রসঙ্গে হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর থেকে গত ১৮ দিনে ১১ জেলেকে আটক করা হয়েছে। জাটকা উদ্ধার করা হয়েছে ১১ থেকে ১২ মণ। তিনি বলেন, তাদের লোকবল নেই। জেলেদেরও অন্য কাজের ব্যবস্থা করা হয়নি। মাছ ধরা জেলেদের নেশা ও পেশা। অনেকে ফাঁকে ফাঁকে নেমে পড়েন নদীতে। বিশাল মেঘনা নদীতে ২/১টি ট্রলারের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে গোটা নদী নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মোবাইল কোর্টের পর্যাপ্ত সুবিধাও তারা পাচ্ছেন না। যেকারণে বিশাল মেঘনার সর্বত্র জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে তাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। তিনি বলেন, পুলিশ ও কোস্টগার্ড দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। তবে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মাঝামাঝি নৌবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প থাকলে জেলেরা ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম এলাকায় নামতেন না।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।