আজকের বার্তা | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

বরিশালে আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘট শিক্ষার্থীদের পাল্টা বিক্ষোভে উত্তাপ

প্রকাশিত : মার্চ ২৪, ২০১৯, ১১:৩৪

বরিশালে আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘট শিক্ষার্থীদের পাল্টা বিক্ষোভে উত্তাপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭ মাহিন্দ্রযাত্রী নিহত হওয়ায় ঘাতক বাস চালক আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার অঘোষিতভাবে ৩ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। একই সময়ে ঘাতক বাস চালকের বিচারের দাবিতে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বাস টার্মিনাল এলাকায় পাল্টা বিক্ষোভ করলে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করলে বেলা ১টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। বাস টার্মিনালের একাধিক শ্রমিক জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। একদল শ্রমিক বিক্ষোভ করে দূরপাল্লা রুটের বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের বসার জন্য রাখা চেয়ারগুলো ভাংচুর করেন। এসময় পুরো টার্মিনাল এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই বিএম কলেজের কয়েকশত শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় তাদের সহপাঠী শিলা হালদারসহ অন্য মাহিন্দ্র যাত্রীদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বাস চালকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় যান। পথে পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ব্যারিকেড ভেঙে টার্মিনাল এলাকায় ঢুকে পড়েন।
তারা টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে রাস্তার ওপর শুয়ে পড়েন। পুলিশ পরিবহন শ্রমিক ও ছাত্রদের মাঝে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বেলা ১টার দিকে আবার বাস চলাচল শুরু হয়। মেয়রের আশ্বাসে ছাত্ররাও কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান। জানতে চাইলে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি গতকাল সকালে বাস টার্মিনালে পৌঁছার আগেই সাধারণ শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জাহাঙ্গীর দাবি করেন, আটক বাস চালকের মুক্তির দাবিতে নয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় চালক জলিলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে পুলিশ নির্যাতন করেছে। এর প্রতিবাদ জানাতে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। একই সময়ে ছাত্ররাও সেখানে নানা দাবিতে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে সিটি মেয়র গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তিনি বলেন, মেয়রের কাছে শিক্ষার্থীরা ৯টি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, আলফা-মাহিন্দ্রর জন্য আলাদা সড়ক, ফুট ওভার ব্রিজ তৈরি, হেল্পারের বাস চালানো বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রদের পরিবহনে হাফ ভাড়া। মেয়র তাদের এসব দাবি পূরণের আশ^াস দিয়েছেন।
এজন্য আগামী পরশু দিন ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি, ৫ জন শ্রমিকের সাথে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে বৈঠক করবেন মেয়র। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন যৌক্তিক। তবে কোনভাবেই এ আন্দোলন সহিংসতার দিকে যেতে দেয়া হবেনা। দুইদিন পর পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনকে নিয়ে সভা করে সড়ক নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। এব্যাপারে বিমান বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর উপ পরিদর্শক মো. ফারুক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক বাস চালক আব্দুল জলিলকে (৩২) শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজিকালিপুর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর অদূরে গড়িয়ারপাড় এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী-শিশু-কলেজছাত্রীসহ ৭ মাহিন্দ্র যাত্রী নিহত হন।
Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।