আজকের বার্তা | logo

৯ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

ছাত্রীকে বিয়ে করতে না পেরে শিক্ষকের এ কেমন নৃশংসতা!

প্রকাশিত : মার্চ ২০, ২০১৯, ২১:৪১

ছাত্রীকে বিয়ে করতে না পেরে শিক্ষকের এ কেমন নৃশংসতা!

রাবেয়া খাতুন। ১৩ বছরের এই শিশু এখন হাসপাতালে বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তার ডান হাত ও ডান পায়ের রগ কেটে ফেলেছেন তারই এক পাষণ্ড শিক্ষক। ওই বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছেন রাবেয়ার দাদি। তাকেও একইভাবে কুপিয়েছেন ওই শিক্ষক। একই হাসপাতালের আরেক বিছানায় গলা ও হাতের কাটা অংশ নিয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে সাত বছরের আরেক শিশু। সেও শিক্ষকের নির্মমতার শিকার।

গত ১৫ মার্চ নড়াইলের সদর থানার সিঙ্গিয়া গ্রামে রাবেয়ার বাড়িতে গিয়ে তাদের তিনজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তারই পাষণ্ড শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম মিঠু বিশ্বাস। প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবেয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের কুপিয়েছেন মিঠু।

রাবেয়া খাতুন, তার দাদি জাহানারা বেগম ও পাশের বাড়ির শিশু হেনা এখন ভর্তি রয়েছে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। তাদের তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জামিল।

জানা যায়, হামলার দিন পাষণ্ড শিক্ষক মিঠু বিশ্বাস হাতে চাপাতি নিয়ে সন্ধ্যা সময় হাজির হন রাবেয়া খাতুনের বাড়িতে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাবেয়ার ডান পা ও ডান হাতের রগ কেটে দেন। এই শিক্ষকের কাছ থেকে রক্ষা পাননি রাবেয়ার ঘরে থাকা সাত বছরের শিশু হেনা, তার হাতে ও গলায় চাপাতি দিয়ে কোপায় মিঠু। তাদের বাঁচাতে গেলে রাবেয়ার দাদি জাহানারা বেগমের হাতেও চাপাতির কোপ দেন ওই শিক্ষক। চাপাতির কোপে রাবেয়ার দাদির ডান হাতের কঞ্জি শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। আর বাম হাতের কঞ্জিও চাপাতির কোপে ছিঁড়ে অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ভয়ানক এই ঘটনা সম্পর্কে রাবেয়ার বাবা রবিউল ইসলাম  জানান, মিঠু বিশ্বাস নামের ওই কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের বাড়ি তাদের একই গ্রামে। তাই ছোট বেলা থেকেই দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে জানাশোনা ছিল। মিঠু বিশ্বাস স্থানীয় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতকের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। এলাকায় প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবেও তার বেশ সুনাম আছে।

রবিউল ইসলাম আরও জানান, রাবেয়াকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানোর পর মিঠু বিশ্বাসের কাছে প্রাইভেট পড়তে পাঠায় তার পরিবার। গত জানুয়ারিতে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন মিঠু বিশ্বাস। ওই ব্যাচে রাবেয়ার সঙ্গে আরও অনেকই মিঠু বিশ্বাসের কাছে প্রাইভেট পড়ত। কিন্তু প্রাইভেট পড়া শুরু করার এক মাসের মধ্যেই রাবেয়াকে নানাভাবে কৌশলে প্রেমের প্রস্তাব দিতে শুরু করেন মিঠু। এর পর রাবেয়া বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। এমন ঘটনা জানার পর মিঠু বিশ্বাসের কাছে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেয় রাবেয়ার পরিবারের সদস্যরা। তবে এতে থেমে থাকেননি মিঠু বিশ্বাস। তিনি নানাভাবে রাবেয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা অব্যহত রাখেন।

প্রেমের প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে বিয়ের প্রস্তাব

পঙ্গু হাসপাতালে রাবেয়ার স্বজনরা  জানান, রাবেয়ার সঙ্গে নানা কৌশলে প্রমের সম্পর্ক গড়তে গিয়ে ব্যর্থ হন মিঠু বিশ্বাস। পরে তার পরিবারের সদস্যদের গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাবেয়াকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান।মিঠু। ওই প্রস্তাব সরাসরি নাকোচ করেনি রাবেয়ার পরিবার। গত মাসের শেষের দিকে দুই পরিবার একসঙ্গে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আলোচনায় বসেন।

ওই আলোচনায় রাবেয়ার বাবা মিঠু বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যদের জানায়, তার মেয়ে রাবেয়ার বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তাই বিয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে মিঠু বিশ্বাসও তার পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটা চাকরি করুক। তখন বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ কৌশলে সেই দিনের আলোচনাতে রাবেয়ার পরিবারের সদস্যরা বিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছিল।

বাগদানের আংটি পড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু

রাবেয়ার বড় চাচা মো. ইলিয়াস বিশ্বাস  জানান, বিয়েতে তারা রাজি হাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। কিন্তু ওই আলোচনার ১০-১২ দিন পর মিঠু বিশ্বাস ও তার মা রাবেয়ার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করতে একটি আংটি নিয়ে হাজির হন তাদের বাড়িতে। কিন্তু সেই দিন রাবেয়ার বাবা, চাচাসহ পরিবারের সাদস্যরা সবাই বিয়ে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এ কারণে ওই দিন আংটি নিয়ে ফিরে যান মিঠু ও তার মা। আর এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই মিঠু বিশ্বাস এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটিয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।