আজকের বার্তা | logo

৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে মার্চ, ২০১৯ ইং

বসত ঘর তোলার হিড়িক: ঝুঁকি বাড়ছে উপকূলবাসীর বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল উজাড়

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯, ১৯:৫৭

বসত ঘর তোলার হিড়িক: ঝুঁকি বাড়ছে উপকূলবাসীর বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল উজাড়

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া, প্রতিনিধি ॥ উপকূলীয় সাগরপাড়ের জনপদ কলাপাড়ায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল দখল করে এখন বসতবাড়ি তোলার হিড়িক চলছে। ফলে দুর্যোগকালীন সময় ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষ ও তাঁদের সম্পদ রক্ষাকবচ সবুজ দেয়াল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল। প্রায় চার শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত দুই শ’ কিলোমিটার এলাকার ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল উজাড় হয়ে গেছে। এমনকি সংরক্ষিত বনাঞ্চল পর্যন্ত উজাড় হয়ে গেছে। এসব বনে এখন আর বন্যপ্রাণী থাকে না। বসতভিটা করছে মানুষ। দখল ও বসতঘর তোলার কারণে এখন হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কলাপাড়ার গোটা জনপদ ষাটের দশকে ছিল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলে ঘেরা।
বেড়িবাঁধ করার পরে জোয়ার-ভাটায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ প্রজাতির ছইলা, কেওড়া, গোলগাছ, গেওয়াসহ গুল্ম জাতীয় গাছপালা বেড়িবাঁধের বাইরে জন্মায়। বাঁধের অভ্যন্তরের গাছগুলো মরে যায়। বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল এ উপকূল। অনেক প্রজাতির গাছের চারা বনবিভাগ রোপণ করেছে। বেশিরভাগই ছিল প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো। এসব সবুজ বনাঞ্চল দেয়ালের মতো জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা প্রতিরোধ করত। সরেজমিনে দেখা গেছে, দখল ও বসতঘর তোলার তা-ব। মধুখালীর লেকটি প্রায় ১২ কিমি দীর্ঘ ছিল। প্রায় ছয় কিমি এলাকায় এখনও প্রাচীনকালের ছইলা কেওড়া গাছে পরিপুর্ণ লেকটির দুই পাড়। কিন্তু প্রাচীন গাছগুলো কেটে সাবাড় করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বাগানোর মধ্যে শতাধিক বসতঘর তোলা হয়েছে। কলাপাড়া ভূমি অফিস এই বনাঞ্চলকে চাষযোগ্য কৃষিজমি দেখিয়ে বহু আগে বন্দোবস্ত দেয়। সবশেষ লেকটির পূর্বপাড়ের শতাধিক গাছ গেল বছর কেটে মাছের ঘের ও বসতঘরের ভিটি করা হয়। এনিয়ে তোলপাড় হয়। কিন্তু বনবিভাগ ৫০ বছর লেকের দুই পাড়ের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল পাহারা দিলেও এখন তাঁরা বলছে এ বাগানটি ভূমি অফিসের।
লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশ নিয়ে গঠিত পোল্ডার নম্বর ৪৮। দীর্ঘ এ পোল্ডারের বাইরে ছিল অন্তত ৫০ কিমি এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলে ঘেরা। এখন বিরানভূমি। মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে। ইটভাটা, মাছের ঘেরে সয়লাব। কলাপাড়া পৌর শহর ও টিয়াখালী ইউনিয়নজুড়ে বাঁধের বাইরের অধিকাংশ ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান কেটে উজাড় করা হয়েছে। এখন শত শত বাড়িঘর তোলা হয়েছে। ১২টি ইউনিয়নের একই দৃশ্য। প্রত্যেকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানান, এসব বনাঞ্চল রক্ষার দায়িত্ব প্রথমত বনবিভাগের। তারা উদাসীন রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করা জমিতে বাঁধ করেছে। বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্লোপের নিচের যে জমি রয়েছে ওই জমিতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল গড়ে ওঠে। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল উজাড় হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, নদীপাড়ে এবং বেড়িবাঁধের বাইরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালা। যা রক্ষা করা প্রয়োজন। তাহলেই ফের উপকূলীয় সবুজ দেয়াল গড়ে তোলা সম্ভব। নইলে ঝড় জলোচ্ছ্বাসের গ্রাসে থাকা এই জনপদ ও জনপদের মানুষের দুর্যোগকালীন ঝুঁকি আরও বাড়বে।
Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।