আজকের বার্তা | logo

৬ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং

দৌলতখানে ৫০ শয্যা হাসপাতালে একজন ডাক্তার: রোগীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০১৯, ০২:৪৩

দৌলতখানে ৫০ শয্যা হাসপাতালে একজন ডাক্তার: রোগীদের ভোগান্তি

দৌলতখান প্রতিনিধি ॥ দ্বীপজেলা ভোলার মেঘনা উপকূলীয় দৌলতখান উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট দৌলতখান হাসপাতালটিতে ডাক্তারের অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তারের অপেক্ষায় কেউ কেউ বসে থাকেন চিকিৎসকের রুমের সামনে। আর অসুস্থতার জন্য কেউ কেউ বসতে না পেরে শুয়ে থাকেন বেঞ্চের উপর। আর অনেকেই অপেক্ষা করেন বারান্দায় কখন ডাক্তার আসবেন। সবশেষে অধিকাংশ অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে যেতে হয়। টিএইচসহ ২১ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৫ জন। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে হাসপাতালের অফিস রুমে বসার কথা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের। গত বুধবার সকাল ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ জন ডাক্তারের দায়ীত্বে থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১ জন। তাও আবার কিছু সময়ের জন্য তার চেম্বারটি ছিল শূন্য। এসময় রোগীদেরকে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। রোগীরা জানান, ‘‘স্যারে বাহিরে গেছেন।” হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে যোগাযোগ করলে চিকিৎসা নিতে আসা ভবানীপুর ইউনিয়নের রোগী জিসান এর মা জানান, ‘‘গত মঙ্গলবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আমার শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে আসলে আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর কর্মচারীরা কাগজপত্র, সিট বুুঝিয়ে দেওয়ার সময় ২০ টাকা করে দাবি করেন। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন কথা বলেন। ভর্তি শেষে হাসপাতালে থেকে তেমন ওষুধ পাইনি। বেশিরভাগ ওষুধই বাহির থেকে কিনে আনতে হয়েছে।” এদিকে দৌলতখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতাল ২৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানে নেওয়ার পথেই ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীরা যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামান রাব্বি সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৫ জন। এরমধ্যে একজন রয়েছেন ট্রেনিংয়ে। আবার ২ জন আছেন ডেপুটেশনে। আবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও ছুটিতে।” তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর যাবত হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই। এতে রোগীদের সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ রথিন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, দৌলতখানে এখন ৬ জন ডাক্তারের মধ্যে ২ জন ভোলা সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন। তাদের মধ্যে ১ জন সপ্তাহে ২ দিন ভোলা সদর হাসপাতালে এবং ৪ দিন দৌলতখান হাসপাতালে কাজ করেন। একজন ছুটিতে আছেন। আর বাকি ডাক্তারদের কর্মস্থলে থাকার কথা। তিনি আরো বলেন, ‘‘ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।