আজকের বার্তা | logo

৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং

বরিশালের খাবার হোটেলে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ

প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০১৮, ১৫:৪৪

বরিশালের খাবার হোটেলে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ

অনলাইন সংরক্ষণ  //  সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি না থাকায় বরিশাল শহরের খাবার হোটেলগুলো চলছে ইচ্ছে মত। খাবারের মূল্যও বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে ২/৩ গুণ। কিন্তু তাও মিলছে না স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। প্রতিনিয়ত হোটেলগুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভাতসহ নানাবিধ খাবার। অথচ হোটেলগুলোর অবস্থা যে এতটাই করুণ তা সরেজমিনে না দেখলে অনুমান করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বরিশাল শহরের লঞ্চঘাট-চরকাউয়া এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাতের হোটেলে চোখ রাখলেই এই অনিয়মের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, প্রশাসনিক ঝুট-ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি হোটেলের রান্না ঘর তৈরি করা হয়েছে হোটেলের খানিকটা দূরে কীর্তনখোলা নদীর তীরে। সেখানে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা হলেও সেটি কোন্ প্রতিষ্ঠানের তা নিশ্চিত হওয়া কষ্টের বিষয়। ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, চরকাউয়া খেয়াঘাট-লঞ্চঘাট এলাকায় অন্তত ১০টির বেশি খাবার হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের খাবার মান খুবই নি¤œমানের।

এমনকি নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশন বা তৈরি হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরও রয়েছে নিশ্চুপ। বলা বাহুল্য যে ওই হোটেলগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই খাবার তৈরির কাজ চালানো হচ্ছে। যা খাবার হোটেলগুলো রন্ধনশালায় গেলে সহজেই দেখা যায়। এভাবেই দিনের পর দিন হোটেলগুলো পরিচালিত হওয়ায় এলাকার সচেতন মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গত ৩ মাসে এসব হোটেলগুলোর খাবার খেয়ে শতাধিক মানুষ পেটের পীড়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আতংক আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, একই অবস্থা শহরের পলাশপুর, কাউনিয়া, নতুন বাজার, কাশিপুর, চৌমাথা, বটতলা বাজার, ফলপট্টি, বাজার রোড, কেডিসি, চাঁদমারী, নথুল্লাবাদ ও রুপাতলীসহ প্রায় সকল খাবার হোটেলেরই। এসব স্থানের হোটেলগুলোর পরিবেশ এতটা খারাপ হলেও প্রশাসন গত ৬ মাসে বড় ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। বিশেষ করে ভোক্তার অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও কয়েক মাসে শহরে তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও হোটেল পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যানেজ করেই ইচ্ছা খুশি মত হোটেলগুলো চলছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলছেন, শহরের হোটেলগুলোতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। তার পরেও থামছেনা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার কাজ। নিয়মের ভিতরে কেন আসছে না সেই বিষয়টি নিয়ে তারাও বিব্রত। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে একাধিকবার জরিমানা আদায় করার পরেও যদি তারা না শোনে সেক্ষেত্রে কি করার আছে বলেও জানান তিনি। তারপরেও অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আপাতত শহরের বাইরে উপজেলাগুলোতে তাদের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। গত মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৬৮টি অভিযান করে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে বিভাগীয় শহরের হোটেলগুলোকে অনিরাপদ রেখে উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযানের বিষয়টিকে ইতিবাচক মনে করছেনা সচেতন মহল। অবশ্য এই কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরকেও দোষারোপ করা হচ্ছে। তাদের অধিদপ্তরের সনদ না নিয়ে অথবা সনদ নেয়ার পরেও কিভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। যদিও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবদুল হালিম বলছেন, নগরীর যে সকল খাবার হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চালানো হবে অভিযান।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।