আজকের বার্তা | logo

২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং

হিজড়ারা সমাজের বোঝা নয়, তবে উপেক্ষিত

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮, ০৩:২০

হিজড়ারা সমাজের বোঝা  নয়, তবে উপেক্ষিত

খন্দকার রাকিব ॥ হিজড়া সমাজের একটি পরিচিত সম্প্রদায়। পথে ঘাটে, হাটে বাজারে, অলি গলিতে তাদের পদচারণা আছে সত্য কিন্তু তারা সমাজের তলানিতে বসবাস করেন। মানুষ তাদের দেখলে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে। কিন্তু একবারও ভাবতে যায়না হিজড়াদের সমাজে উপস্থিতির জন্য তারা নিজেরা দায়ী নন। এক কথায় বলতে গেলে হিজড়ারা সমাজের বোঝা নন। তাদেরও খেটে খাওয়া মানুষের মত অধিকার আছে। বরিশালে চলছে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের ল্েয দতা উন্নয়ন প্রশিণ। ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে’- এ লক্ষ্যে সেøাগান নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে হিজড়াদের দতা উন্নয়ন প্রশিণের উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের বিউটিফিকেশন ও দর্জি বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশিণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগে তালিকাভুক্ত ৬২ জন হিজড়াকে পর্যায়ক্রমে এই প্রশিণ দেয়া হবে। প্রশিণ শেষে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেও ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল। ২০১৩ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠী তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গেজেটে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে হিজড়া লিঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল’। স্বীকৃতির পর তাদের প্রতি কমেছে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি- এমনটাই জানান বরিশাল হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। হিজড়া পরিচয়ে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই স্বীকৃতির দাবি ছিল হিজড়া সম্প্রদায়ের। তবে স্বীকৃতির ৫ বছরেও এই পরিচয়ে তাদের কোনো নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। সরকারের স্বীকৃতির পর দেশের বিভিন্ন অফিস, আদালত, দপ্তর, অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব বিধির পরিবর্তন না আনায় হিজড়া জনগোষ্ঠী আলাদা লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে হিজড়াদের দাবি, তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে কোটা চান। শুধু হিজড়াদের জন্য কোটা চান তারা। হিজড়া জনগোষ্ঠীকে এখনও কোনো রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নিতে হলে তাদের ত্রেবিশেষ পুরুষ, আবার কখনও নারী পরিচয় দিতে হচ্ছে। তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয় দিয়ে কোনো সুবিধা মিলছে না বলেও জানান তারা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হিজড়াদের বড় অংশই দরিদ্র। তাদের মধ্যে শিার হার কম এবং অন্য কাজেও তাদের দতা কম। এদের বিরুদ্ধে আবার যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, খাদ্য সংকট, পুষ্টির অভাব ও যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করায় বিভিন্ন ধরনের রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন এরা। হিজড়াদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজ সেবা অধিদপ্তর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। তাদের শিা, প্রশিণ, ভাতা ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা হয়। তবে তাতে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি ল্য করা যাচ্ছে না। এবারের সমাজ সেবা অধিদপ্তর’র আয়োজনে চলমান প্রশিক্ষণ কতটা সুফল বয়ে আনবে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে এই জনগোষ্ঠীর জন্য হিজড়া উন্নয়ন প্রকল্প’র আদলে কোনো ভালো কাজে এগিয়ে আসলে হিজড়াদের জন্য সমাজে শক্ত ভীত গড়া কোনো দুরূহ ব্যাপার নয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রে হিজড়াদের সাধারণ মানুষের চেয়ে বুদ্ধি বিবেচনায় একধাপ এগিয়ে থাকতে লক্ষ্য করা যায়।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।