আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

মুলাদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্য বিবাহ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৮, ০২:০৭

মুলাদীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্য বিবাহ

মুলাদী প্রতিনিধি ॥ মুলাদী উপজেলার প্যাদারহাট ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রূপা। শৈশব-কিশোরী বয়স পেরুতে না পেরুতেই ‘ভালো’ পাত্র পেয়ে বিয়ের আয়োজন করেন অভিভাবক ও স্বজনরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুলাদী থানা পুলিশ রূপার বাড়িতে পৌঁছালে বর-কনে, বরযাত্রী ও বিয়ের আয়োজকরা পালিয়ে যান। ভেঙে যায় রূপার বিয়ে। কিন্তু রূপার মতো সবাই বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। অভিভাবকরা অতি গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করায় অধিকাংশ বাল্য বিয়েই প্রশাসনের নজরে পড়ছে না। মুলাদী উপজেলায় আশঙ্কাজনকহারে বাল্য বিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কিভাবে বাল্য বিয়ে বন্ধ করবেন এনিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হিমশিম খাচ্ছেন। বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সচেতন করলেও কোনো কাজে আসছে না। যে যেভাবে পারছেন যতদ্রুত সম্ভব নিজেদের কন্যা-    তথাকথিত আপদ! বিদায় করছেন। উপজেলার অনেক অভিভাবক কোর্টে গিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করছেন। উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীরা বাল্য বিয়ে নিবন্ধন না করতে চাইলে নিবন্ধন ছাড়াই চলছে বিয়ে। আকদ্ অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন করে বিয়ের কাজ সেরে রাখা হচ্ছে, মেয়ের বয়স ১৮ হলেই বিয়ের নিবন্ধন করা হবে। ভুয়া জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার নজির রয়েছে অনেক। অভিভাবকদের এধরনের সিদ্ধান্তের ফলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। বিয়ে রেজিস্ট্রি না হওয়ায় মাঝপথে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক পরিবার। যৌতুক কিংবা নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও বিবাহ নিবন্ধন না থাকায় আদালতে যেতে পারছে না এসব পরিবার। বিশেষ করে গরীব ও নিম্ন শ্রেণির লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। উপজেলায় বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে চরাঞ্চলের এলাকাগুলো। ওইসব এলাকায় অশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত লোকজন মেয়ে সামান্য বড় হলেই বিয়ের জন্য চিন্তায় পড়ে যান। ভালো পাত্রের খোঁজে নেমে পড়েন স্বজনরা আর মোটামুটি টাকা পয়সা উপার্জন করে এধরনের পাত্র পেলেই কন্যা সম্প্রদানের কাজটি দ্রুত সেরে ফেলতে চান। সফিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী জানান, ‘‘বাল্য বিয়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করি। কিন্তু স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করায় অনেক সময় বাল্য বিয়ের সংবাদ পাওয়া যায়। বিয়ের দেড়-দু’মাস পরে সংবাদ পাওয়া যায়। তখন কিছুই করার থাকে না। বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন হিমু মুন্সী। মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্য বিবাহ বন্ধের জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু অভিভাবকরা গোপনে বিয়ের ব্যবস্থা করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রতিদিনই বাল্য বিয়ের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ২/৩মাস আগেই গোপনে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে কিংবা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক পালিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করছে। এধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তিনি অভিভাবক ও স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।