আজকের বার্তা | logo

১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বরিশালে এসআই’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ০২:১৩

বরিশালে এসআই’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল হক কত টাকা হাতিয়েছেন, তা নিয়ে প্রায়শই কানাঘুষা শোনা যায়। কিন্তু ঘটনাচক্রে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা কতটা নীতি নৈতিকতা বিরোধী অবস্থান নিতে পারেন তারও একটি জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি করলেন আসাদুল। এবার একটি পত্রিকার বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সৃষ্টি করলেন নতুন একটি বিতর্ক। এমনকি সাংবাদিকদের নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করার দু:সাহস দেখিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিকালে যানবাহনে অভিযানের নামে চাঁদা তোলার একটি ঘটনা প্রকাশ পেলে বিষয়টির সত্যতা জানতে গিয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুলের এমন অসদাচরণ প্রত্য হয়েছে। এেেত্র আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সাংবাদকর্মীদের নানামুখী প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা তালগোল পাকিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ওসি ও বকশির সাথে সু-সম্পর্ক থাকার বিষয়টিও প্রকাশ করেন। মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অপরাপর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টায় নিজের অবস্থান জানান দিয়ে দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি ওসি স্যার ও বকশি অবগত। সুতরাং কাউকে থোরাই কেয়ার করার সময় নেই। কারণ আমি ওসির খাস লোক”! এই তথ্য ফাঁড়ি পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রমতে, সাম্প্রতিকালে শিার্থী আন্দোলনের পর সারাদেশে যানবাহনে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি পুলিশকেও এই অভিযানে অংশ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ফাঁড়ি ইনচার্জ আসাদুল যানবাহনে অভিযানের নামে শুরু করেন বোপরোয়া চাঁদাবাজি। সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যারাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখ থেকে গ্যাসভর্তি একটি পিকআপ আটক করেন। ওই সময় পিকআপ চালক শাওন গাড়িটির বৈধ কাগজ প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। কিন্তু ফাঁড়ি পুলিশ আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে গাড়িটি আটকে রাখে। অথচ ওই সময় পিকআপ মালিক নুর হোসাইনের অনুরোধ ছিল যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এসআই আসাদুল কোনো শর্তেই গাড়িটি ছাড়ছিলেন না। গভীর রাত পর্যন্ত গাড়িটি আটকে রেখে একপর্যায়ে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে শুরু করেন রফাদফা। অবশ্য সেই রাতেই সন্ধিচুক্তি করে মালিক নুর হোসেনের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পিকআপটি ছেড়ে দেন এসআই আসাদুল। এই পুরো রফাদফার একটি ফোনালাপ এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। মূলত সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিতে গেলেই সংবাদকর্মীর ওপর চড়াও হন এসআই আসাদুল। একপর্যায়ে রেগে গিয়ে তিনি পত্রিকার বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই আসাদুল প্রতিদিন অর্ধশত যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও অর্থ সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দেন। এই বিষয়টি নিয়ে খোদ ফাঁড়ি পুলিশের অপরাপর সদস্যদের মধ্যেও রয়েছে বিরোধ। কিন্তু পদমর্যাদায় আসাদুল বড় কর্মকর্তা হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস নেননি বা নিচ্ছেন না। অনেকে আবার অনৈতিক সুবিধা নিতে তার তোয়াজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে বিষয়টি ফাঁড়ি বা থানা পুলিশেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এমতাবস্থায় ফাঁড়ি পুলিশের যানবাহনে অভিযান কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তপে কামনা করেছেন যানবাহন মালিকরা। এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি থানায় গিয়ে আলাপের পরামর্শ দেন। তবে থানার বকশি ফাইজুল জানিয়েছেন, ওসির নির্দেশে ফাঁড়ি ইনচার্জকে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।