আজকের বার্তা | logo

৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

থামছে না পায়রার ভাঙন: শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮, ০০:৫৬

থামছে না পায়রার ভাঙন: শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

আমতলী  প্রতিনিধি ॥ “মোরা এক সোমায় গাঙ্গের ধারে বইয়া ওই পাড়ের মানুর লগে কতা কইতাম। এ্যাহোন হেই গাঙ্গ ভাইঙ্গ্যা বড় অইয়্যা গ্যাছে। এই গাঙ্গে মোগো ঘর-বাড়ি জায়গা জমি ভাইঙ্গ্যা গ্যাছে। মোরা জায়গা জমি খুঅ্যাইয়্যা গরিব অইয়্যা গেছি। মোগো ২০ একর জমি গাঙ্গে ভাইঙ্গ্যা গ্যাছে।” এ কথা বলেছেন তালতলীর মৌপাড়া গ্রামের ৯০ বছর বয়সী রফেজউদ্দিন তালুকদার। থামছে না পায়রা নদীর ভাঙন। নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই আয়তনে ছোট হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলা। নদী ভেঙে পূর্বের চেয়ে প্রস্থ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিনে পায়রা নদীতে অর্ধশত একর জমি ও শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি হারিয়ে পথে বসেছে হাজারো পরিবার। ভয়াল পায়রা নদীর ভাঙনের হাত থেকে ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, প্রমত্তা বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বিস্তৃত। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ছিলো ১২০০ মিটার। বর্তমানে নদীটি ভেঙে গড় প্রস্থ হয়েছে ৩৫০০ মিটার। নদী ভেঙে পূর্বের চেয়ে প্রস্থ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভয়াল পায়রা নদী উত্তাল থাকে। জোয়ার ও ভাটার স্রোতে নদী ভেঙে আকারে বড় হচ্ছে। গত ৫০ বছরে নদী পাড়ের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও হাজার হাজার পরিবারের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটা মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ। সম্প্রতি গত ১৫ দিনে আমতলী ও তালতলীর ৩০ কিমি অংশের পায়রা নদীর চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালী, পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড, লোচা, আড়পাঙ্গাশিয়ার পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, পঁচাকোড়ালিয়া সøুইজ, মৌপাড়া, গাবতলী, নকড়ী, তেঁতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙার অর্ধশত একর ফসলি জমি ও শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই এ সকল স্থান দিয়ে প্রবল স্রোতের চাপে নদীর পাড় ভাঙছে। নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় এলাকাবাসী ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালীর ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে নদীর পাড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি কিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শতাধিক ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমতলী পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত ১২০০ মিটার, লোচার ৫০০ মিটার, পশুরবুনিয়ার ১০০০, বালিয়াতলীর ২০০০, মৌপাড়ার ২০০০ মিটার, গাবতলীর ৫০০, তেঁতুলবাড়িয়ার ১০০০ ও জয়ালভাঙার ২০০০ মিটার পায়রা নদীর পাড় ভেঙে ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।