আজকের বার্তা | logo

৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং

জনপ্রিয় জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু খুন: পার্শবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান কবির কাজী পরিবারসহ লাপাত্তা!

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ০৩:৫৭

জনপ্রিয় জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু খুন: পার্শবর্তী ইউপি চেয়ারম্যান কবির কাজী পরিবারসহ লাপাত্তা!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উজিরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান বিশ^জিত হালদার নান্টু নিহতের ঘটনায় ক্রমশই উত্তেজনা বাড়ছে। হত্যাকা-ের ১ দিন পর চেয়ারম্যান সমর্থিতরা সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ভাংচুর করেছেন। ঘটনা সংশ্লিষ্ট জল্লা ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং বিক্ষুব্ধরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথ সরগরম করে তুলেছেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জল্লার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নান্টু হত্যার প্রধান কারণ মাদক ব্যবসা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার। পার্শ্ববর্তী শোলক ইউপি চেয়ারম্যান কবির কাজী ও তার ভাইয়ের ছেলে লিটন কাজী জল্লায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। এতে বাধা দিয়ে আসছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নান্টু। যেকারণে অকালে প্রাণ দিতে হয় জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত হালদার নান্টু-কে। উজিরপুর থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় জল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম পান্নু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আহম্মেদ রাব্বি, স্থানীয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সাঈদ রাঢ়ী, পার্শ্ববর্তী শোলক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কাজী হুমাউন কবির, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মামুন শাহ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. সুমন, ২০০৩ সালে গুলিতে নিহত প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান অবনী বাড়ৈর পুত্র অচিন্ত বাড়ৈ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল মল্লিক-সহ ৩২ জনের নামোল্লেখ এবং ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৭ ও বিএনপির ৫ নেতাকর্মী রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত তাইজুর রহমান পান্নু, হরশিত রায়, আইয়ুব আলী ফরাজী, সাইদুল সিকদার, মন্নান হাওলাদারকে গতকাল রোববার বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলী আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে। পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মাদক ব্যবসা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ হত্যাকা- ঘটেছে। এর অন্যতম হোতা পার্শ্ববর্তী শোলক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কাজী হুমাউন কবির ও তার ভাইয়ের ছেলে কাজী লিটন। ঘটনার পরপরই তারা গা-ঢাকা দেয়ায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের খুঁজছে। হত্যার মূল কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বলে সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যার দিন সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী শোলক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কাজী হুমাউন কবির ও কাজী লিটনকে জল্লায় দেখা গেছে। এরপর থেকে তারা নিরুদ্দেশ রয়েছেন। এমনকি তাদের পরিবারের লোকজনও গা-ঢাকা দিয়েছেন। কথা হয় জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি জানান, তাদের এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন কাজী লিটন। চাচা জনপ্রতিনিধি হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে অন্য ইউপিতে মাদকের বিস্তার ঘটানোয় ক্ষুব্ধ ছিলেন জল্লাবাসী। তারা একাধিকবার চেয়ারম্যান নান্টু’র কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। যেকারণে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত হালদার নান্টু। উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, তারা হত্যাকা-টিকে রাজনৈতিক হিসেবে দেখছেন না। প্রাথমিকভাবে ওই ঘটনার সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, নান্টু-কে গুলি করে হত্যা করার পর পরই লাপাত্তা হয়ে গেছেন অনেকে। পাশর্^বর্তী শোলক ইউপির চেয়ারম্যান হুমাউন কবির কাজী পুরো পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সন্দেহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মামলায় অভিযুক্ত হুমাউন কবির এর সাথে নিহত চেয়ারম্যান নান্টু’র বৈরী সম্পর্কের খবর ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই কবিরের সাথেই নান্টু চেয়ারম্যানের বিরোধ তৈরি হয়। কারণ কবির চাচ্ছিলেন জল্লা ও শোলকের মাদক বাণিজ্য তার একার নিয়ন্ত্রণে রাখতে। বিশেষ করে তার ভাইয়ের ছেলে লিটু কাজী মাঠ পর্যায়ে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছিলেন চাচার নির্দেশে। কিন্তু সাম্প্রতিকালে এই লিটু’র সাথে নিহত চেয়ারম্যানের কাছের লোকজনের বিরোধ দেখা দেয়। এমনকি সেই সময় চেয়ারম্যান কবির জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নান্টু-কে দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। ফলে তিনিই শেষটা দেখালেন কিনা- এমন প্রশ্ন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। অবশ্য পুলিশও এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ভূত অবস্থায় স্থানীয়রা জোর দাবি করেন, এই ঘটনায় চেয়ারম্যান কবিরের প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষোভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাদের ভাষায়, দুটি ইউনিয়নের মাদক বাণিজ্য একার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কবির-ই ভাড়াটে খুনিদের নিয়ে এসেছেন। এমনকি তার নির্দেশেই নান্টু-কে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ^জিত হালদার নান্টু হত্যার ১ ঘণ্টা পূর্বে শোলক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমাউন কবির মোটরসাইকেলে একজন অজ্ঞাত সঙ্গী নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হন। তার ঘণ্টাখানেক পরেই ইউপি চেয়ারম্যান বিশ^জিত হালদার নান্টু খুন হন। যদিও নান্টু হত্যার ঘটনার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি চেয়ারম্যান হুমাউন কবির। বরং তার পরিবার পরিজনকেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। এ বিষয়টি নিয়েও জল্লা ও শোলক ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে সমানতালে। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো: সাইফুল ইসলাম বলেছেন, খুনিরা পেশাদার। তার ধারণা বাইরের কোথাও থেকে খুনিদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছিলো। এই খুনের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক কবির-সহ সকলকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।