আজকের বার্তা | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

আমতলীতে ধানের দাম কম থাকায় দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৮, ০২:২৬

আমতলীতে ধানের দাম কম থাকায় দিশেহারা কৃষক

আমতলী প্রতিনিধি ॥ “কত কষ্ট হইর‌্যা এই বচ্ছর আউশ ধান দিছি, ধান ভালোই অইছে কিন্তু আডে ধানের দাম কোম। কি হরমু অনেক টাহা লোকসান দিতে অইবে। ধার হইর‌্যা জমি চইছি, কিদ্ধা হেই ধার টাহা দিমু কইতে পারি না।” এ কথাগুলো বলেছেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বেতমোর গ্রামের কৃষক বসির ও আবদুস কুদ্দুস। বরগুনার আমতলীতে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদী হলেও  বাজারে ধানের দাম কম থাকায় দু:চিন্তায় কৃষকরা। কৃষকরা জানান, ধানের দাম কম থাকায় লাভবান হওয়ায় সম্ভাবনা নেই। একর প্রতি উৎপাদন খরচ ২২-২৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে উৎপাদিত ফসলের বিক্রয় মূল্য ১৫-২০ হাজার টাকা। একর প্রতি কৃষকের লোকসান ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমতলীতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ছিল ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর। ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি আউশ চাষাবাদ হয়েছে। আউশ ধান চাষের উপযুক্ত সময় মধ্য বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। বীজতলা থেকে শুরু করে পাঁচ মাসের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ধানের ফলন আসে। শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন। উচ্চ ফলনশীল জাতের বিরি-৪৮, বিরি-২৭, বিআর-২৬ ও বাউ- ৬৩ ধান চাষ করছেন কৃষকরা। একর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দেড় মেট্রিক টন। এ সময় কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আউশের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় একর প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে কৃষকদের। বাজারে প্রতিমণ ধান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, জমির বর্গামূল্য, চাষাবাদ, রোপণ, কীটনাশক, নিড়ানি, বীজের মূল্য ও ধান কাটায় একর প্রতি জমির উৎপাদন খরচ ২২-২৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২-৩৫ মণ। বাজারে প্রতিমণ ধান ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে ওই জমিতে আয় হবে ১৫-২০ হাজার টাকা। এতে একর প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। এদিকে আমতলী খাদ্য গুদামের বোরো সংগ্রহ অভিযানে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ ধরে ৬৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ রয়েছে। তারা এরমধ্যে  ৩০০ মেট্রিক টন শুকনা ধান ক্রয় করেছে। কিন্তু সরকারি মূল্যে ধান ক্রয়ের প্রভাব বাজারে পড়ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী, আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আউশ ধান কাটছেন কৃষকরা। চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের জিয়া উদ্দিন জুয়েল জানান, ‘‘এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে বিরি-৪৮ জাতের আউশ ধানের চাষ করেছিলাম। উৎপাদন খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। ওই জমিতে ১৬ মণ ধান পেয়েছি। বাজারে ৪৫০ টাকা মণ ধরে ৭ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে।” ধান-চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বশির হাওলাদার বলেন, বাজারে দুই ধরনের ধান রয়েছে। প্রকার ভেদে ওই ধানের মণ ৪০০-৫০০ টাকা। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের লোকসান হবে। তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, চাঁদপুর, দিনাজপুর, গাছুরিয়া মিল ও দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি অটো রাইস মিল মালিকরা ধান ক্রয় করতেন। এখন তারা ক্রয় না করায় বাজারে ধানের দাম কমে গেছে। আমতলী খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রবীন্দ্র নাথ বলেন, ‘‘বোরো সংগ্রহ অভিযানে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে শুকনো ৬৫০ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ পেয়েছি। এরমধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে।” আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, এ বছর আউশ ধানের ফলন ভালো। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে।”

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।