আজকের বার্তা | logo

১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল ইউএস বাংলার বিমান

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮, ০৪:৫৮

আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল ইউএস বাংলার বিমান

বার্তা ডেস্ক ॥ ঢাকা থেকে ১৭১ জন আরোহী নিয়ে কক্সবাজারগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান (ফাইট নম্বর- বিএস ১৪৩) চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জাহান বলেন, বোয়িং ৭৩৭-এইটকিউএইট উড়োজাহাজটির নোজ গিয়ার বা সামনের চাকা নামছিল না। এ কারণে কক্সবাজারে নামতে না পেরে পাইলট চট্টগ্রামে চলে আসেন। শেষ পর্যন্ত নোজ গিয়ার না নামিয়েই পাইলট এখানে নিরাপদে ল্যান্ড করাতে পেরেছেন। ইউএস-বাংলা কর্তৃপ ‘আরোহীদের সবাই সুস্থ ও নিরাপদ’ বলে দাবি করলেও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ৪০ জন যাত্রীর সামান্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কারও আঘাত গুরুতর নয়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন বলে প্রায় ৭০ জন যাত্রী সাময়িকভাবে ট্রমায় ভুগেছেন। তারাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এ ধরনের ট্রমা হতে পারে।” এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ। এই কমিটিকে তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ফাইট বিএস ১৪১ কক্সবাজারে নামার কথা ছিল বেলা সাড়ে ১২টায়। কক্সবাজারের আকাশে পৌঁছে পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) জাকারিয়া বুঝতে পারেন, নোজ হুইল কাজ করছে না। তিনি কয়েকবার চক্কর কেটে নোজ হুইল নামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কক্সবাজারে জরুরি অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় তিনি চট্টগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামে চলে আসে এবং বিমানবন্দর কর্তৃপ জরুরি অবতরণের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও উদ্ধারকর্মীরা রানওয়েতে অপো করতে থাকেন।  বেলা ১টা ২০ মিনিটে বোয়িং ৭৩৭-এইটকিউএইট উড়োজাহাজটি সামনের চাকা পেটের ভেতরে রেখেই নিরাপদে শাহ আমানতের রানওয়েতে নেমে আসে। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেণকারী ওয়েবসাইট ফাইটঅ্যাওয়ার ডটকম ইউএস-বাংলার ফাইট বিএস ১৪১ যাত্রাপথের এই ট্র্যাকরেকর্ড প্রকাশ করেছে। সেখানে কক্সবাজারের আকাশে কয়েকবার চক্কর কেটে পরে চট্টগ্রামে অবতরণের বিষয়টি স্পষ্ট। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার জিএম কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘ওই ফাইটে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১১ জন ছিল শিশু। তাদের সবাই সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। আমরা বিকল্পভাবে তাদের কক্সবাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।” বিমানবন্দরের ম্যানেজার সারোয়ার ই জাহান জানান, উড়োজাহাজটি নামার সময় রানওয়ের তেমন কোনো তি হয়নি। তবে সেটি সরিয়ে নিতে সাড়ে ৫টা বেজে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে। এই সময়ে রিজেন্ট এয়ারের কলকাতা ফাইট, ইউএস-বাংলার কলকাতা ফাইট এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দোহা ফাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়। অন্যদিকে, নভোএয়ারের দুটি এবং ইউএস-বাংলার একটি ফাইটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা বিলম্বিত হয়। বিকাল পাঁচটা ৪০ মিনিটে রানওয়ে থেকে বিএস ১৪১ সরিয়ে নেয়ার এক ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে আসা ইউএস-বাংলার আরেকটি ফাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুণ পর নভোএয়ারের একটি ফাইট অবতরণ করে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের কক্সবাজারগামী ফাইট চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে ‘টেকনিক্যাল কারণে’। এ ঘটনায় যাত্রী, ক্রু বা এয়ারক্রাফটের কোনো য়তি হয়নি বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে উড়োজাহাজটি থামার পর সামনের অংশ তিগ্রস্ত হওয়ায় যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয় পেছনের ইমার্জেন্সি এক্সিট দিয়ে। তাদের অনেকেই তখন কাঁদছিলেন। কেউ কেউ আবার উড়োজাহাজটির ছবি বা ভিডিও নিচ্ছিলেন। ওই ফাইটের যাত্রী নায়লা নাজনীন বলেন, কক্সবাজারে অবতরণের চেষ্টা করেও পাইলট আবার বিমান উঠিয়ে নেন। যাত্রীরা ভয় পেয়ে গেলে তাদের বলা হয়, সিগনালে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়।  মো. মানিক নামে এক এনজিওকর্মী সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রামে নামার সময় ঝাঁকুনি দিলে যাত্রীরা কান্না শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঝাঁকি দিয়ে বিমান থেমে যায়। তখন ধোঁয়া দেখতে পাই। পরে পেছনের দরজা দিয়ে নেমে আসি।” তালুকদার মো. তৌহিদ নামের আরেক যাত্রী বলেন, “নেপালের ঘটনা থেকে ইউএস-বাংলার শিা নেয়া উচিত ছিল। সরকারের উচিত এই বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।” চলতি বছর ১২ মার্চ নেপালে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জনের মৃত্যুর ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেয়। এরপর থেকে দুর্ভাগ্য এ বিমান পরিবহন সংস্থারটির পিছু ছাড়ছে না। গত ছয় মাসে ইউএস-বাংলার বেশ কয়েকটি ফাইট ছোটখাটো জটিলতার মুখে পড়ায় যাত্রীদের আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দুই বছরের মাথায় ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশে প্রবেশ করে। বর্তমানে তারা সাতটি আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি দেশের ভেতরে সাতটি গন্তব্যে নিয়মিত ফাইট পরিচালনা করছে।

শাহ আমানত বিমানবন্দর ৫ ঘণ্টা পর চালু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন:

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান জরুরি অবতরণের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবার সচল হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ওই বিমানটি জরুরি অবতরণের ফলে তিনটি ফাইট বাতিল হলেও সন্ধ্যা ৬টার পর পুনরায় বিমান উঠানামা শুরু হয় বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন বিমান বন্দরের সিনিয়র এয়ার ট্রাফিক অফিসার হাসান জহির। এদিকে দুর্ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশের প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। কর্তৃপ জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস-বাংলার বিমানটি এরই মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর আগে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু নিয়ে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলার ফাইট বিএস ১৪১ কক্সবাজারে নামতে না পেরে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করে। এ সময় বিমানে হালকা স্ফুলিঙ্গও দেখা যায়। দমকল বাহিনী তাৎণিকভাবে পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তবে বিমানটি সরিয়ে নিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় বাতিল করতে হয়ে তিনটি ফাইট। কলকাতা থেকে আসা ইউএস-বাংলা ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি ফাইট চট্টগ্রাম নামতে না পেরে ঢাকায় অবতরণ করে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা নভোএয়ারের ফাইটটিও বাতিল করা হয়।

যে পাইলটের জন্য রা পেলেন যাত্রীরা:

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস-বাংলার একটি ফাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ১৭১ যাত্রী নিয়ে অসাধারণ দতায় ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটি ক্র্যাস ল্যান্ডিং থেকে বাঁচিয়েছেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে এগারোটায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পাইলটের অসাধারণ দতায় ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটি ক্র্যাস ল্যান্ডিং থেকে বেঁচে গেছে। রা পেয়েছেন ফাইটে থাকা ১১ শিশুসহ (ইনফ্যান্ট) ১৬৪ যাত্রী ও সাত ক্রু। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের কথা নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ইউএস-বাংলার একটি ফাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাঁচটি গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপ।’ এ বিষয়ে জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপরে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ইউএস-বাংলার ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটির সামনের নোজ হুইল কাজ না করায় পেছনের চাকাগুলোর ওপর ভর করে বিমানটি শাহ আমানতে অবতরণ করে। অবতরণের সময় বিমানটির সামনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।