আজকের বার্তা | logo

২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

আদেশ অমান্য করে সন্ধ্যা নদীতে বালু উত্তোলন

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮, ০৩:০৩

আদেশ অমান্য করে সন্ধ্যা নদীতে বালু উত্তোলন

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া প্রতিনিধি ॥ সন্ধ্যা কোনো এলোকেশী তরুণীর নাম নয়, সন্ধ্যা একটি রাুসী নদীর নাম যার গর্ভে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে  বানারীপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। একমাত্র সম্বল ভিটে মাটি ও ফসলী জমি হারিয়ে নিঃশ্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শতশত  পরিবার। সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন বেছে নিয়েছেন যাযাবর জীবন। বানারীপাড়ায় অনিয়মতান্ত্রিক ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাুসে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙছে নদী, পুড়ছে কপাল, কাঁদছে হাজারো মানুষ। আর কপাল খুলে আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী মহল। বানারীপাড়া উপজেলায় সন্ধ্যা নদীতে মোট ৮টি বালু মহল ইজারার পয়েন্ট রয়েছে। নদীর ভাঙন রোধে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলার ইলুহার গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য পরিমল জনস্বার্থে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে নদীর ভাঙন রোধে কেন বালুমহালইজারা দেয়া বন্ধ করা হবে না, সে মর্মে জবাব চাওয়া হয়। হাইকোর্টের রিটের বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় গত দুই বছর ধরে বরিশালের অপর উপজেলাগুলোর সন্ধ্যাসহ বিভিন্ন নদীতে বালুমহালইজারা দেয়া হলেও বানারীপাড়া উপজেলায় স্থগিত রাখা হয়। এতে বালু দস্যুদের ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি হয়েছে। উচ্চাদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে  জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মাসোয়ারার মাধ্যমে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে  বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বালুদস্যুরা রাুসে সন্ধ্যা নদীর বুককে ত-বিত করে রাত-দিন ১০/১২টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে  বালু উত্তোলন করছে। আর এর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা। এদিকে, অনিয়মান্ত্রিকভাবে যত্রতত্রভাবে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে নদী শাসন বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর যে স্থানে ভাঙন তীব্ররূপ ধারণ করছে সেই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর গভীরতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের এলাকাও ভাঙনের কবলে পতিত হয়। বালুদস্যুদের কারণে ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ নাজিরপুর, দান্ডয়াট, শিয়ালকাঠি, জম্বদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী, কাজলাহার, ডুমুরিয়া, ইলুহার, ধারালিয়া, বাসার, নলশ্রী, মসজিদবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি, খোদাবখসা, কালীর বাজার, চাউলাকাঠি, মীরেরহাট ও খেজুরবাড়ি গ্রামের কয়েক শত একর ফসলি জমি ,অসংখ্য বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল, কলেজ,  মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার ইলুহার বিহারীলাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট ও জম্বদ্বীপ সাইকোন শেল্টার যে কোনো সময় নদী গ্রাস করে ফেলতে পারে। হুমকির মুখে রয়েছে খেজুরবাড়ি আবাসন ও উত্তর নাজিরপুর গুচ্ছ গ্রাম। ভাঙনের কারণে বসত ঘর, ভিটামাটি ও ফসলি জমিসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। উল্লেখিত মানচিত্রে থাকলেও নদী গ্রাস করে ফেলায় গ্রামগুলো বাস্তবে নেই। চলতি বর্ষা মৌসুমে পুনরায় নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শুধু আ’লীগ সরকার আমলে নয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে বালুদস্যুরা ছিলো আরও বেপরোয়া। ওই সময়ই মূলত গ্রামগুলো নদী গ্রাস করে ফেলে। এর ধারাবাহিকতায় এখনও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, ২০১২ সালে তৎকালীন  আ’লীগ দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি এলাকাবাসীর স্বার্থে নদীর ভাঙন রোধে বালুমহাল ইজারা না দেয়ার জন্য ভূমিমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। ফলে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় ওই সময় নদী ভাঙন অনেকটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।