আজকের বার্তা | logo

১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বাউফলে কথিত অপহরণ মামলার আসামিকে থানা হাজতে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত : আগস্ট ১৪, ২০১৮, ০২:০০

বাউফলে কথিত অপহরণ মামলার আসামিকে থানা হাজতে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ

আরেফিন সহিদ, বাউফল প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর বাউফলে একটি কথিত অপহরণ মামলার আসামিকে থানা হাজতে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত রিপন হাওলাদার বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের উত্তর কেশবপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিপনের ভাই লিমন হোসেনের সঙ্গে ধুলিয়া ইউনিয়নের চর চাঁদকাঠি গ্রামের জাকির হোসেন খানের মেয়ে সাবরিনা মেহেরিন তৃষার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লিমন চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। আর তৃষা ধুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। উভয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে না নেয়ায় গত ১২ জুলাই প্রেমিক-প্রেমিকা নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ওই দিন তৃষার মামা বাউফল থানার এসআই সাঈদুর রহমান হাসান লিমনের ভাই রিপনকে তার দোকান থেকে ডেকে নিয়ে চড়-থাপ্পর ও কিলঘুষি মারেন। এরপর লিমনের চাচাতো ভাই সাব্বিরকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়েও মারধর করেন। তৃষার সহপাঠী সাব্বির তখন বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছিল। এসময় পিস্তল উঁচিয়ে এসআই সাঈদুর রহমান ত্রাস সৃষ্টি করায় এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়। ৩ দিনের  মধ্যে তৃষাকে ফেরত না দিলে রিপনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন এসআই সাঈদ। এরপর ২০ জুলাই তৃষার বাবা জাকির  হোসেন খান বাদী হয়ে বাউফল থানায় লিমনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার নাবালিকা মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছেন আসামিরা। ঘটনার পর থেকে এসআই সাঈদ প্রভাব খাটিয়ে লিমনের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। লিমন ও তৃষার সন্ধান না পাওয়ায় লিমনের ভাই রিপনকে গত ৮ আগস্ট গ্রেপ্তার করেন এসআই সাঈদ। রিপনকে থানা হাজতে আটক করে রাতভর নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করেন তিনি। ৯ আগস্ট ভোরে রিপনের স্ত্রী রুনু বেগম ও বোন মুক্তা আক্তার তার সঙ্গে থানায় দেখা করতে যান। কিন্তু পুলিশ রিমনের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের কোনো সাক্ষাৎ করতে দেয়নি। থানা সূত্র জানায়, তৃষার অবস্থান জানতে এবং অপহরণের স্বীকারোক্তি আদায় করার জন্য রিপনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করেন এসআই সাঈদ। এসময় রিপনকে মাদক মামলা ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিতেও প্রতিশ্রুতি আদায় করেন তিনি। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয় রিপনকে। গত ১২ আগস্ট পটুয়াখালী কারাগারে গিয়ে  রিপনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার বোন মুক্তা আক্তার ও দুলাভাই তোফায়েল আহমেদ। ১৩ আগস্ট রিপনের বোন মুক্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এসআই সাঈদের ভাগ্নি তৃষার সঙ্গে আমার ভাই লিমনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমার পরিবারের কেউ এই সম্পর্ক মানতে রাজী নন। কিন্তু এসআই সাঈদ আমার ৬ ভাইকে মামলার আসামি করেছেন। আমার ভাই রিপনকে থানায় ধরে এনে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। নির্যাতনের কারণে তার সমস্ত শরীর কালো হয়ে গেছে। মাথায় আঘাত করায় ঘাড় বেঁকে গেছে। এসআই সাঈদের ভাগ্নি তৃষা একটি ছেলের হাত ধরে পালিয়ে গেছে, অথচ মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে আমাদেরকে দেশছাড়া করার হুমকি দেয়া হচ্ছে।” একজনের অপরাধের খেসারত পরিবারের সবাইকে কেন দিতে হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।’’ এদিকে আলোচিত এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কথিত অপহরণের শিকার তৃষার মামা এসআই সাঈদুর রহমানকে। ভাগ্নিকে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন মামা- এমন মুখরোচক আলোচনা চলছে সর্বত্র। ফলে সঠিক তদন্ত হবে কি না তা নিয়ে শংকিত নির্যাতিত রিপনের পরিবার। তৃষার বাবা জাকির হোসেন খান বলেন, ‘‘লিমন আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে। আমি থানায় মামলা করেছি। আমার শ্যালক এসআই সাঈদুর রহমান হাসান মামলাটির তদন্ত করছেন।” এসআই সাঈদুর রহমান হাসান বলেন, ‘‘তৃষা আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। আমি রিপনকে নির্যাতন করিনি, এমনকি কোনো প্রভাবও খাটাইনি। একজন পুলিশ কর্মকর্তার যে দায়িত্ব আমি তা যথাযথভাবে পালন করছি।” এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন,  ‘‘থানা হাজতে কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে তাহলে আমাদের করার কিছুই নেই। ভিকটিম অপ্রাপ্ত বয়স্ক তাকে উদ্ধার করাই আমাদের প্রধান কাজ।”

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।