আজকের বার্তা | logo

৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

বাংলাদেশকে অনেক ‘অপ্রিয় সত্য’ জানিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা

প্রকাশিত : আগস্ট ৩০, ২০১৮, ২৩:২৬

বাংলাদেশকে অনেক ‘অপ্রিয় সত্য’ জানিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা

অনলাইন সংরক্ষণ  //   বাংলাদেশ ফুটবলের দুঃখের সংসারে একটুখানি সুখ এসেছিল, কিন্তু সেটি আর বেশি দিন টিকল না। এশিয়ান গেমস ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাতারকে হারানোর সুখানুভূতি মিলিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দল হেরে যাওয়ায়। নীলফামারীর এই হার যেন বলে দিল, দেশের মাটিতে সাফ ফুটবল ভীষণ কঠিন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।
এখনো যে দু-একটা দেশ র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পেছনে আছে, এই দলগুলোর মধ্যে একটি শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০০ তে অবস্থান করা লঙ্কানদের বিপক্ষে দেখা গিয়েছে হতশ্রী এক বাংলাদেশকে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে শুধু হারই নয়, ম্যাচের পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বের হয়ে এসেছে আরও কিছু সত্য। এই সত্য মানছেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডেও।

বাস্তবের মাটিতে পা রাখা
এশিয়ান গেমসে তরুণেরা কাতারকে হারিয়েছেন, ড্র করেছেন থাইল্যান্ডের সঙ্গে, সঙ্গে সঙ্গে সাফ নিয়ে আশার বেলুনটা ফুলে গিয়েছিল। কাতার-থাইল্যান্ডকেই যদি হারানো যায়, সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিপক্ষে জয় কোনো ব্যাপার না! জেমি ডে বারবারই সেই আশায় রাশ টানতে চেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কালকের হারটা এক দিক থেকে তাই জেমি ডের কাছে মন্দের ভালো। তাঁর চোখে সাফ নিয়ে আশার বেলুনটা এখন আর অযথাই ফুলতে থাকবে না, ‘হারটা সাফের আগে আমাদের জন্য একটু পিছিয়ে পড়াও। তবে এক দিক থেকে ভালোই হলো। সবাই একটু বেশিই আশাবাদী হয়ে পড়ছিল। আমরা কোথায় আছি, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা হঠাৎই সাফে গিয়ে সেটা জিতে ফেলব, এমন ভাবাটা বাড়াবাড়ি হয়ে যেত। তিন-চার ম্যাচে ভালো করেই আমরা সাফের সেরা দল হয়ে যাইনি।’

তরুণেরাই ভরসা
শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে একটা কথা শোনা গিয়েছে, ‘এশিয়ান গেমস আর সাফের খেলা এক নয়।’ সাফে তরুণদের খেলানো ঠিক হবে না, এটাই ছিল পরোক্ষভাবে তাঁদের বার্তা। কিন্তু কাল মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, এশিয়াড মাতানো সাদ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সুফিলের মতো তরুণদের ওপরেই সাফে ভরসা রাখতে হবে। যারা কিনা পুরো ৯০ মিনিট এক ধাঁচে দৌড়াতে পারেন, হারার আগ পর্যন্ত না হারার মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারেন প্রতিপক্ষের ওপর চোখে চোখ রেখে। তাই তো এশিয়াডে খেলা সেরা একাদশটায় সাফের ভরসা বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। যে দলে আছেন তিনজন অভিজ্ঞ ফুটবলার গোলরক্ষক আশরাফুল রানা, সেন্টারব্যাক তপু বর্মন ও মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া।

অভিজ্ঞদের নিয়ে ভাবার সময় এসেছে
বাংলাদেশের বিপক্ষে কাল মাঠে নামার আগে শ্রীলঙ্কা শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে এএফসি সলিডারিটি কাপে। একেবারেই আনকোরা তরুণদের নিয়ে প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে নেমেই লঙ্কানরা হারিয়ে দিল মামুনুল ইসলাম, নাসিরউদ্দীন চৌধুরী, ফয়সাল মাহমুদদের নিয়ে গড়া অভিজ্ঞ বাংলাদেশকে। সাফের জন্য একাদশ ও ২০ সদস্যের দল চূড়ান্ত হওয়ার পরীক্ষার ম্যাচে শুধু হারই নয়, মামুনুলরা ম্যাচের পরতে পরতে দেখিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলকে তাঁদের আর দেওয়ার কিছুই নেই। না হলে ম্যাচ শেষে কোচকে কী আর বলতে হয়, ‘কিছু খেলোয়াড় আমাকে খুবই হতাশ করেছে। এখন আমার দল গঠন করাটা সহজ হয়ে গেল।’ বোঝাই যাচ্ছে অনেক ‘সিনিয়র’ খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ লেখা হয়ে গেছে এই হারে।

দুর্বল রিজার্ভ বেঞ্চ
শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগেও শোনা গিয়েছে ২০ সদস্যের দল চূড়ান্ত করতে গিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কোচকে। এশিয়াডে তরুণদের ভালো করাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, নাকি দেওয়া হবে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব। কিন্তু এখন ২০ জন পাওয়াই কঠিন! লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে এশিয়াডের একাদশের বাইরে থাকা অবশিষ্ট খেলোয়াড়েরা ম্যাচ ফিটনেসে অনেকে পিছিয়ে। এশিয়াডে গোলরক্ষক আশরাফুল রানা যেমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, সে হিসেবে শহিদুল আলম সোহেল বিকল্প হওয়ার মতো নয়। রাইটব্যাক বিশ্বনাথ বা সেন্টারব্যাক তপু বর্মনের বিকল্পও দেখা গেল না গতকাল। মাঝমাঠে জামাল ভূঁইয়া ও আতিকুর রহমান ফাহাদের ধারেকাছেও মনে হয়নি মামুনুল বা সোহেল রানাকে। এ ছাড়া ফরোয়ার্ড লাইনে বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দীন ও মাহবুবুর রহমান সুফিলদেরও বিকল্প নেই। এতেই প্রমাণিত হয় রিজার্ভ বেঞ্চের দুর্বলতা নিয়ে সাফ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গোলদাতার অভাব
জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সমস্যা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু কাল শাখাওয়াত রনি বা নাবীব নেওয়াজ যা খেলেছেন, তা দেখে হা-হুতাশ বাড়া ছাড়া কিছুই করার নেই। গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেওয়া দূরের কথা, ম্যাচে একটিবারের জন্যও প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরাতে পারেননি তাঁরা। প্রশ্নটা উঠেই যাচ্ছে, সাফে গোল এনে দেবে কে বা কারা? এশিয়াডে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করা সুফিলের ওপর হয়তো ভরসা রাখতে চাইবেন কোচ। এশিয়াডে অনেক গোলের সুযোগ মিস করলেও গোল করার জন্য অন্ধের যষ্টি এই তরুণই। কিন্তু একা তো আর একজন সব সময়ই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারবেন না। সুফিলের সঙ্গে দলের ত্রাতা হয়ে উঠুক অন্যরাও।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।