আজকের বার্তা | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

কলাপাড়া ও মঠবাড়িয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবন: বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৮, ০৩:১৩

কলাপাড়া ও মঠবাড়িয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবন: বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত

বার্তা ডেস্ক ॥ জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে ডুবে গেছে কলাপাড়া ও মঠবাড়িয়ার বেশ কিছু অঞ্চল। মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- কলাপাড়া : সাগরপারের জনপদ পায়রা বন্দরসহ কলাপাড়ার গোটা উপকূলীয় এলাকার জনপদে অস্বাভাবিক জোয়ার হানা দিয়েছে। দুই দিনের অস্বাভাবিক জোয়ারে অন্তত ২০টি গ্রাম এখন ভাসছে। বিশেষ করে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ পাড়ের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ এলাকার ১০টি গ্রামের অন্তত আড়াই হাজার পরিবারের বাড়িঘর সব জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। চারিপাড়া, পশুরবুনিয়া, নাওয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মুন্সিপাড়া, বড় পাঁচ নং, ছোট পাঁচ নং, বানাতিপাড়া, ব্যুরোজালিয়া, নয়াকাটা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, পুকুর থেকে টয়লেট পর্যন্ত ডুবে গেছে। মানুষের রান্না পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। বাড়িঘরে কার্যত বন্দী হয়ে পড়েছে। শুক্রবারে জুমার নামাজ পর্যন্ত পড়তে পারেনি চারিপাড়ার মানুষ। একই দৃশ্য বেড়িবাঁধ ভাঙা জনপদ মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুরসহ পাঁচটি গ্রামের জনপদে। সেখানকার স্কুল, মসজিদ, জনপদ, বাড়িঘর সব পানিতে ভাসছে। স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের বুক সমান পানিতে ভিজে চলাচল করতে হচ্ছে। নতুন করে চর ধুলাসার এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন অস্বাভাবিক জোয়ারে দুই দফা প্লাবনের শিকার হচ্ছে মানুষ। সাগর প্রচ- উত্তাল রয়েছে। হাজারো মাছ ধরার ট্রলার শিববাড়িয়া চ্যানেলের মহিপুর আলীপুরে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। লালুয়ার বাসিন্দা মজিবর প্যাদা জানান, জোয়ারের এমন চাপ তারা আগে কখনও দেখেননি। ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ^াস জানান, ভাঙা বেড়িবাঁধটি জরুরিভাবে মেরামত করা প্রয়োজন। কৃষকের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। আমন আবাদ ভেস্তে যাওয়ারও শঙ্কা করছেন এই জনপ্রতিনিধি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান জানান, লালুয়া ও নিজামপুরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের জানান, রাবনাবাদ পারের লালুয়ার এবং আন্ধারমানিক নদীপাড়ের নিজামপুর গ্রামের মানুষের দুরবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া : উপকূলীয় মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ^র নদীর জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে নদ তীরবর্তী খেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়া বেড়িবাঁধের চারটি স্থান বিলীন হয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের ৩/৪ ফুট পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ওই ইউনিয়নের খেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়া জেলে পল্লীর কয়েক হাজার মানুষ গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া জোয়ারের স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, খেতাছিঁড়ার নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধ দিয়ে হুহু করে জোয়ারের পানি  গ্রামে ঢুকছে। জোয়ারের পানিতে নদীর তীরবর্তী জেলেদের বসতঘর ও কৃষিজমি, রাস্তা-ঘাট প্রায় ৩/৪ ফুট পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে আমন বীজতলা ও পাকা ইরি ধানের ক্ষেত, সবজি বাগানসহ ১০টি মাছের ঘের ডুবে প্রায় ৮০০ হেক্টর কৃষি জমি পানির নিচে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরে বলেশ^র নদ তীরবর্তী খেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়া বেড়িবাঁধের প্রায় আড়াই কিমি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপরেও বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে হরিলুট হয়। সঠিকভাবে মেরামত না করায় বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরাজ মিয়া বেড়িবাঁধ ধসের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেড়িবাঁধটি নদী ভাঙনকবলিত হওয়ায় কিছু অংশে ধস দেখা দিছে। ওই অংশ জরুরি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম ঢালী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ধসের খবর জেনেছি। বাঁধটি নদী লাগোয়া হওয়ায় তা ঝুঁকিপূর্ণ। ওই স্থানে মাটি ভরাট ও ব্লক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বাঁধ সংলগ্ন জমির অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে প্রকল্প তৈরি করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।