আজকের বার্তা | logo

৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং

কলাপাড়ায় স্কুল ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: ধর্ষণের অভিযোগ: সৎ মা আটক

প্রকাশিত : আগস্ট ১৬, ২০১৮, ০২:১৯

কলাপাড়ায় স্কুল ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার: ধর্ষণের অভিযোগ: সৎ মা আটক

কলাপাড়া ও কুয়াকাটা প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইভা (১১) রহস্যেঘেরা ঘটনায় মারা গেছে। ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় সে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বর্বর ও আতঙ্কজনক এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে ঘণ্টাখানেক শিশুটির সৎমা সালমা বেগম (২৫) অচেতন ছিলেন। স্থানীয় মানুষ ডাকাতের দুর্বৃত্তপনার সন্দেহ করলেও পুলিশ তা মানতে নারাজ। স্থানীয়রা গণধর্ষণের কথাও বলে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সালমা বেগমকে রাতেই আটক করে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেও রহস্যের কোনো কূল কিনারা করতে পারেনি। গণমাধ্যম কর্মীদের ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। গোটা বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ রয়েছেন। পুলিশ নিজেরা ধোঁয়াশায় রয়েছে বলে মানুষ বলাবলি করছে। নিহত শিশুটি মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিহত শিশুর চাচা ইউসুফ ঘরামী জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার ভাই ইসমাইল ঘরামীর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় মা সালামা বেগম দৌড়ে পাশের বাড়ি গিয়ে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে অচেতন হয়ে যান। আশপাশের লোকজন গিয়ে ঘরে ছোট্ট অপর শিশুকে দেখতে পেলেও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইভাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অনেক খোঁজার পর ঘরের দোতলায় বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়। এসময় তার শরীরের গোপনাঙ্গ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। সেরাজপুর গ্রামের আবুল কালাম দাবি করেন, ‘‘ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা ধারণা করছি।” প্রতিরাতে তারা চুরি-ডাকাতি আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। হতভাগী শিশুর ফুফু পারভীন আক্তার জানান, দুর্বৃত্তরা যখন ঘরে ঢোকে তখন সালমা বেগম ঘুমিয়ে ছিলেন। ছোট বাচ্চা দুইটিও ঘুমিয়ে ছিলো। দুর্বৃত্তরা বাচ্চা দুইটির মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। ততক্ষণে সালমা বেগম কিছুই টের পাননি। যখন তাকে ধর্ষণ করতে আসে তখন সালমা চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পাশের বাড়ি চলে যান। কিন্তু পাশের বাড়িতেও কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না। ততক্ষণে মসজিদের নামাজ শেষ হলে মুসল্লিরা ডাকাত ডাকাত চিৎকার করেন। পরে এলাকার লোকজন বাড়িতে গিয়ে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক  আরিফুজ্জামান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। ঘটনার সময় নিহত শিশুটির বাবা ইসমাইল ঘরামী ঘরে ছিলেন না। মহিপুর বাজারে ছিলেন। ওই এলাকার ইউপি মেম্বার মামুন হাওলাদার বলেন, ‘‘হাসপাতালে এসে আমরা শিশুটির গোপনাঙ্গ থেকে প্রচুর রক্ষক্ষরণ হতে দেখেছি।’ মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস ছালাম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘এ অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা এ নির্মমতার সুষ্ঠু বিচার চাই।’’ মহিপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, এলাকায় ডাকাতের গুজব রয়েছে। তবে কি কারণে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে এটি এখনও স্পষ্ট নয়। শিশুটিকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে বলা যাবে না। লাশ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সঠিক কিছু জানা যায়নি। অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।