আজকের বার্তা | logo

৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে লঞ্চে-বাসে যাত্রীচাপ

প্রকাশিত : আগস্ট ২৮, ২০১৮, ০১:৩১

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে লঞ্চে-বাসে যাত্রীচাপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদের পর দক্ষিনাঞ্চল থেকে ফিরতি যাত্রায় রাজধানীমুখী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে সোমবার তিল ধারণেরও ঠাঁই ছিল না। বাসগুলোতে ছিল ব্যাপক ভিড়। তবে ঈদ ইস্যুতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ঈদের ৬ষ্ঠ দিনে দুপুর থেকেই নদী বন্দরে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল ৫টার মধ্যে লঞ্চগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। লঞ্চের ডেক, ছাদ এমনকি প্রথম শ্রেণির কেবিনের সামনের করিডোরেও অবস্থান নেন যাত্রীরা। তবে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। ১ম শ্রেণির কেবিনের ভাড়া দ্বিগুণ থেকে ৩গুণ পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এছাড়া ডেকের জায়গা চাদর বিছিয়ে দখল করে তা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ স্টাফদের বিরুদ্ধে। পারাবত লঞ্চের যাত্রী জলিল আকন জানান, দুপুরে এসে দেখেন লঞ্চের ডেকে কোনো জায়গা নেই। পরে এক স্টাফ এসে একটা চাদর দেখিয়ে সেই জায়গার জন্য ২শ’ টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে তা দিয়েছেন বলে জানান জলিল। জানতে চাউলে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, ধারণ মতা অনুযায়ী যাত্রী হলেই লঞ্চগুলোকে পল্টুন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রসংগত, দিবা ও রাত্রিকালীন সার্ভিসে বরিশাল থেকে গতকাল ঢাকার উদ্দেশে ১৮টি লঞ্চ ও ৫টি স্টিমার যাত্রী নিয়ে রওনা দেয়। এদিকে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদেও গতকাল উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দূরপাল্লার বাস ছাড়াও মাইক্রোবাসে ঢাকাসহ অন্যান্য গন্তব্যে রওনা দেন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা। তবে কিছু যাত্রী বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের আমতলী প্রতিনিধি জানান, ঈদে নাড়ীর টানে পরিবার পরিজনের কাছে আসা মানুষ ঈদ শেষে ঢাকায় যেতে শুরু করেছে। ঈদের ষষ্ঠ দিন গতকাল সোমবার আমতলী লঞ্চঘাট থেকে এমভি সুন্দরবন-৬ লঞ্চ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে চারগুণ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। এ রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া লঞ্চের যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সিট কিনতে হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আমতলী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও বেশি ভাড়া আদায় করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। লঞ্চের স্টাফ ও আনসাররা ডেকে বিছানা বিছিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে সিট প্রতি অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করছেন। জানা গেছে, আমতলী-ঢাকা রুটে এমভি হাসান হোসেন, এমভি ইয়াদ ও এমভি সুন্দরবন- ৬ নামের ৩টি লঞ্চ সার্ভিসে রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত কোনো লঞ্চ দেয়নি মালিকপক্ষ। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পূর্বে আমতলী-ঢাকা রুটের প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের ভাড়া ছিল ১০০০ এবং ডেকের যাত্রীদের ৩০০ টাকা। ঈদের আটদিন পূর্ব থেকে কোনো কারণ ছাড়াই এ ভাড়া বৃদ্ধি করে সিঙ্গেল কেবিন ১২০০, ডাবল কেবিন ২৪০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। গতকাল সোমবার লঞ্চে বিভিন্ন অনিয়মের খবর পেয়ে আমতলী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার ও ওসি মোঃ আলাউদ্দিন মিলন আমতলী লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই দেখে দ্রুত লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সোমবার আমতলী লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে, এমভি সুন্দরবন-৬ লঞ্চ ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৪ গুণ যাত্রী বহন করে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এ লঞ্চটিতে তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না। অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বরগুনা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘‘লঞ্চের দায়িত্ব শুধু আমার একার নয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসনেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।” আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের খবর পেয়ে দ্রুত লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।”  আমাদের ভোলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন জানান, বরিশাল-খুলনা এবং কুমিল্লা-চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাথে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ভোলার ভেদুরিয়াÑলাহারহাট ও ইলিশাÑলক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট। প্রতিদিন এই ফেরিঘাট ২টি ব্যবহার করে ৩ শতাধিক গাড়ি এবং লঞ্চ ও সি-ট্রাকে করে কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে আসছে। ঈদ ইস্যুতে এখনো ভোলার নৌ-যানগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঈদে  যাত্রীদের  সংখ্যা  কয়েকগুণ বাড়লেও ভাড়া কমেনি বরং ইলিশা-লক্ষ্মীপুর এবং ভেদুরিয়াÑলাহার হাট রুটের ফেরিঘাটে ফেরি, সি-ট্রাক ও লঞ্চ থেকে কর্তৃপক্ষসহ সবাই বাস ট্রাক, মাইক্রো ও যাত্রীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। শুধু তাই নয় পুলিশও শিশুদের ব্যবহার করে যানবাহনের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগে জানান, ফেরি এবং লঞ্চ ঘাটের প্রবেশ ফি ঈদের আগে থেকেই ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। ফেরি পারাপারে  ঈদের আগে যেখানে ১টি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া ছিলো ৩ হাজার টাকা এখন সেই ভাড়া নেয়া হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ছোট পিকআপ, ট্রাক কিংবা মাইক্রো সব কিছুতেই আগের চেয়ে  ৫ থেকে ৭ শত টাকা বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। ফেরিতে চলাচলকারী যাত্রীদের ভাড়া ৫০ টাকার পরির্বতে ৭০ টাকা নেয়া হচ্ছে। সি-ট্রাকেও ভাড়া জন প্রতি ১শত ২০ টাকার পরিবর্তে ১ শত ৫০ টাকা নেয় হচ্ছে। এদিকে ঘাটের খরচের পরিমান বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে  ট্রাক মালিক এবং চালকরাও পরিবহন ভারা বাড়িয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে ভোলার ফেরিঘাটগুলোতে। সি ট্রাক কেরানি শাকিল জানান, ঘাটে বাড়তি টাকা দিতে হয় বিধায় ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির ভোলা ব্যবস্থাপক ইমরান খান জানান, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন না তারা। যারা নিচ্ছে তারা বিআইডব্লিউটিসির সঙ্গে জড়িত নয়। ভোলা কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন নির্বাহী অফিসার ল্যাফটানেন্ট কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে যে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তা বন্ধ করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।